EMail: corporatenews100@gmail.com
সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনে সৌদি আরব হজ পালনের ক্ষেত্রে আরোপিত বয়সসীমা শিথিল করেছে। আগে যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের হজে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগের নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফলে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সি কিশোর-কিশোরীরাও আবার পরিবারের সঙ্গে হজে যেতে পারবে।
হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী?
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় প্রথমে ২০২৬ সালের হজের জন্য ১৫ বছরের নিচে কাউকে অনুমতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এতে অনেক পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে, বিশেষ করে যাদের সন্তানের ভিসা ইতোমধ্যেই ইস্যু হয়েছিল বা প্রক্রিয়াধীন ছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলও করা হয়েছিল এবং অর্থ ফেরতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত কার্যকারিতা শুরুর আগেই—৩ মে’র একদিন আগে—সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ফলে আগের মতোই ১২ বছর বয়স থেকে হজ পালনের সুযোগ আবার চালু হলো।
ভিসা বাতিল হলেও মিলছে নতুন সুযোগ
যেসব হজযাত্রীর ভিসা বয়সসীমার কারণে বাতিল বা আটকে গিয়েছিল, তাদের জন্যও এসেছে স্বস্তির খবর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব আবেদন পুনরায় যাচাই করে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। অর্থাৎ, অনেকেই আবার নতুন করে হজে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
পাকিস্তানের হজযাত্রীদের ওপর প্রভাব
চলতি বছরে পাকিস্তান থেকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে হজ ফ্লাইটও শুরু হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানি পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ অনেকেই সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তি
এই নীতিগত পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি উপকারে এসেছে সেইসব পরিবারের, যারা তাদের সন্তানদের সঙ্গে হজে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরা এখন আর কোনো বাধা ছাড়াই পবিত্র এই ইবাদতে অংশ নিতে পারবে।
হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদতে অংশগ্রহণের সুযোগ যখন পরিবারের সবাই মিলে পাওয়া যায়, তখন তা আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত সেই সুযোগটিকেই আবার উন্মুক্ত করে দিল। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কত দ্রুত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা কতটা সহজে সুযোগটি পান।