EMail: corporatenews100@gmail.com
৫০০ টাকার লেনদেন বাধ্যতামূলক
কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ ও রকেটে টাকা আনতে নতুন নিয়ম, প্রথমবার
ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা আনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস হিসাবে যুক্ত করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক প্রথমবার তার ব্যাংক কার্ডকে এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাইলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা টোকেন লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। সেই লেনদেন সফল হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর যেকোনো পরিমাণ টাকা অ্যাড মানি করা যাবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে কিছুটা সহজ করা হবে এই প্রক্রিয়া। যদি কার্ডধারী এবং এমএফএস অ্যাকাউন্টধারীর নাম একই হয়, তাহলে আলাদা টোকেন লেনদেন ছাড়াই সরাসরি কার্ড সংযুক্ত করে নিয়মিত টাকা স্থানান্তর করা যাবে।
অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি যদি নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টে নিজের ব্যাংক কার্ড থেকে টাকা আনতে চান, তাহলে ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কার্ড থেকে এমএফএসে টাকা পাঠানোর লেনদেনকে আর মার্চেন্ট পেমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে না। এটি এখন থেকে “ফান্ড ট্রান্সফার” হিসেবে গণ্য হবে। একইসঙ্গে টাকা যে মোবাইল ওয়ালেটে যাচ্ছে, সেই নম্বর কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দৃশ্যমান রাখতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতারণার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে একাধিক এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
এছাড়া আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্পন্ন না হলে ১ আগস্ট থেকে কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ লেনদেন অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
করপোরেট নিউজ ২৪/এস.টি