EMail: corporatenews100@gmail.com
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে চলছে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। প্রায় ৮০০ প্রজাতির গাছের চারা নিয়ে আয়োজিত এ মেলায় ইতোমধ্যে বৃক্ষপ্রেমীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, বনজ ও ভেষজ গাছের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে নানা জাতের বনসাই।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ১১ আগস্ট শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত মেলায় অংশ নিয়েছে ৫৮টি নার্সারি ও স্টল।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবুজায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ কারণে বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালানো হবে। তিনি নগরবাসীসহ সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
উদ্বোধনের আগে নগরের ডিসি হিল থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে একটি র্যালি বের করা হয়।
মেলায় রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ
বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টলে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রজাতির ফুলের চারা, বীজ, সার ও বাগান পরিচর্যার সামগ্রী। ফুল গাছের মধ্যে কনকচাপা, কাঁঠালচাপা, চম্পা, বেলি, গ্ল্যাডিয়াস, দোপাটি, এলামেন্ডা, ক্রিসমাস ট্রি, স্বর্ণগুড়ি, চন্দ্রমল্লিকা, পারিজাত, কদম, হাইড্রেঞ্জা, কামিনী, হাসনাহেনা ও জুঁইসহ বিভিন্ন জাতের গাছ পাওয়া যাচ্ছে।
বনজ গাছের মধ্যে রয়েছে রেইনট্রি, কড়ই, সেগুন, গামারি, মেহগনি, গর্জন, জারুল, সুন্দরী, দেবদারু, চিকরাসি, তেলসুর, শাল, শিশু ও গামারীসহ বিভিন্ন প্রজাতি।
ফলদ গাছের চারার মধ্যে রয়েছে আঙ্গুর, মাল্টা, কমলা, জামরুল, পেয়ারা, আমলকি, ড্রাগন ফল, লটকন, তেঁতুল, জাম্বুরা, লিচু, আমড়া, আনার, বরই, সফেদা, স্ট্রবেরি, আম, কামরাঙ্গা, শরীফা, গাব, চাইনিজ কমলা, এলাচি লেবু, কাগজি লেবু, ডুরিয়ান, খোরমা খেজুর, আম্রপালি, বারোমাসি কাঁঠাল, সাগর কলা, মিষ্টি জলপাই, আতা ও করমচাসহ নানা জাতের চারা।
বনসাইয়ে বাড়তি আকর্ষণ
মেলায় দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বনসাই। বিভিন্ন নার্সারি ও বিশেষায়িত স্টলে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির বনসাই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অফিস, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াতে এসব বনসাই কিনছেন সৌখিন ক্রেতারা।
একটি বনসাই বিক্রেতা জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি বনসাই নিয়ে কাজ করছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২০০ প্রজাতির বনসাই। এর মধ্যে আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বাওবাব গাছের বনসাইও রয়েছে।
মেলায় বিভিন্ন বনসাইয়ের দাম কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। পাইকাসের বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই ও চারা ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা, কৃষ্ণচূড়া বনসাই ১০ হাজার, তেঁতুল ৫ হাজার এবং শ্যাওড়া বনসাই প্রায় ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় হিজল প্রজাতির বিশেষ বনসাইয়ের দাম রয়েছে লাখ টাকার কাছাকাছি।
ফুল গাছের চাহিদা বেশি
মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি মালিকদের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী ও বিক্রি দুটোই বেড়েছে। ফলদ গাছের পাশাপাশি এবার ফুল গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে টবে লাগানোর উপযোগী ফুলের গাছ কিনছেন অনেকে।
মেলায় ভেষজ গাছের চারা প্রায় ৪০ থেকে ৪০০ টাকা, বনজ গাছের চারা ৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং ফুল গাছের চারা ৩০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। টবসহ গাছ কিনলে অবশ্য বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে।
শহরের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে মেলায় আসছেন অনেকে। শিশুদের বিভিন্ন গাছের সঙ্গে পরিচিত করাতে অভিভাবকরাও মেলায় নিয়ে আসছেন তাদের সন্তানদের। সবুজে সাজানো মেলার পরিবেশ দর্শনার্থীদেরও আনন্দ দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি জানান, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও চারা নিয়ে নার্সারি মালিকরা অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে ফুল গাছের চারা ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের এ বৃক্ষমেলা শুধু গাছ কেনাবেচার আয়োজন নয়; নগরবাসীর মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা এ মেলা চট্টগ্রামের বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ সংগ্রহের একটি ভালো সুযোগ হয়ে উঠেছে।