EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলাদেশে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে বিশ্বব্যাংক আরও ১৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, ঋণ দিচ্ছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বিশেষভাবে নারী ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া অতিরিক্ত এই অর্থ রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE) প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে সারা দেশে আরও প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার তরুণের জন্য কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর আগে এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়েছেন।
দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সহায়তায় জোর
বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা এবং ক্ষুদ্রঋণের সুবিধাসহ সমন্বিত সেবা পাবেন। এসব উদ্যোগ কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদ্যমান বাধা দূর করতে সহায়ক হবে।
নারীর ক্ষমতায়নে একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ হিসেবে প্রকল্পে মানসম্মত শিশুযত্ন সেবার সুযোগ যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ ভবিষ্যৎ অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হন।
বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন,
“ভালো চাকরি একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার এবং পুরো একটি জনগোষ্ঠীর জীবন বদলে দিতে পারে। কিন্তু প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বহু তরুণ এখনো উপযুক্ত কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। দক্ষতার ঘাটতি ও কাজের মান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে আসা আরও বেশি তরুণ—বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ—বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে।”
গ্রামীণ এলাকাতেও সম্প্রসারণ
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পটির কার্যক্রম শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও সম্প্রসারিত হবে, যাতে প্রান্তিক তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহায়তার আওতায় আসেন। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যেই চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তারাও আয় ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।
এই অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে RAISE প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
করপোরেটনিউজ/এসজিএন