EMail: corporatenews100@gmail.com
দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক বাধা সরানো হচ্ছে, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই এসব ব্যাংকের নাম ও বাহ্যিক সাইনবোর্ড পরিবর্তনের কাজ শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর রিফর্ম: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।
শাখা পুনর্বিন্যাস হবে
ড. মনসুর বলেন, একীভূতকরণের ফলে শুধু নাম নয়, শাখা পর্যায়েও বড় ধরনের পুনর্গঠন আসবে। একই এলাকায় একাধিক একীভূত ব্যাংকের শাখা থাকলে ব্যয় কমাতে একটি শাখা রাখা হবে এবং অন্যগুলো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করা হবে।
আমানতকারীদের সুরক্ষায় ১২ হাজার কোটি টাকা
আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, প্রয়োজনে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দ্রুত ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “সব গ্রাহক একসঙ্গে টাকা তুলতে চাইলে পৃথিবীর কোনো ব্যাংকই তা সামলাতে পারবে না। প্রয়োজন না হলে আমানত ব্যাংকেই রাখুন।”
ইসলামী ব্যাংক আপাতত তালিকার বাইরে
গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে সেটিকে আপাতত একীভূতকরণের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে ফরেনসিক অডিটের ঘোষণা দিয়ে ড. মনসুর বলেন, “ব্যাংক কোনো মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। গণমাধ্যমে আসা প্রতিটি অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।”
তিনি আরও জানান, কোনো শাখায় লুটপাট বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের (হুইসেল ব্লোয়ার) সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
খেলাপি ঋণ ও বন্ড মার্কেট
গভর্নর স্বীকার করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। এই চাপ কমাতে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড মার্কেট উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তার ভাষায়, বিশ্বে বন্ড মার্কেট ব্যাংকিং খাতের তুলনায় অনেক বড়—বাংলাদেশেও বড় শিল্পঋণের ক্ষেত্রে সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রয়োজন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, গভর্নর যেন রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে নীতি নির্ধারণ করতে পারেন—এমন সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানে নিতে কমপক্ষে এক দশক সময় লাগতে পারে, তবে সংস্কারের যাত্রা সঠিক দিকেই শুরু হয়েছে।
করপোরেটনিউজ/এসজিএন