USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

মোবাইলের দোকান বন্ধ, বিপাকে ক্রেতারা

0

অবৈধ ও ক্লোন করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ এবং মোবাইল ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বছরের প্রথম দিন থেকেই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা কার্যকর করেছে সরকার। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে মোবাইল ব্যবসায়ীদের একাংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। এতে করে নতুন ফোন কিনতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সরকারের তথ্যমতে, দেশে ব্যবহৃত মোট মোবাইল ফোনের প্রায় ৬০ শতাংশই আন-অফিশিয়াল বা অবৈধভাবে আমদানি করা। এসব হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হলেও ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ফোন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি, এনইআইআর বাস্তবায়নের আগে করহার হ্রাস, আমদানির এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং মোবাইল ব্যবসায় দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিতে হবে।

এই দাবিগুলো সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে বিটিআরসি ঘেরাও, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। মোবাইল হ্যান্ডসেট ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর আইসিটি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি ও এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে মার্চ পর্যন্ত স্টকে থাকা আন-অফিশিয়াল ফোন বিক্রির সুযোগ দেয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক যদি এমন ফোন কেনেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।

তবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকেই এনইআইআর কার্যকর করে বিটিআরসি। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং অভিযানে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিটিআরসির এক কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকশ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এমবিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের মোবাইল সরবরাহের বড় অংশই এসব ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হয়। তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এনইআইআর দ্রুত কার্যকর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা কার্যকর হওয়ার আগেই এনইআইআর চালু হওয়ায় অনেক ফোন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। পূর্বের দাবির সঙ্গে এখন গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিও যুক্ত হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

কর্মসূচির প্রথম দিন রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মোতালেব প্লাজাসহ অধিকাংশ মার্কেটে মোবাইলের দোকান বন্ধ ছিল। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরেও বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিজস্ব শোরুম খোলা ছিল। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে এবং আজ থেকে ঢাকায় সদস্যদের জমায়েতের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসিতে হামলার ঘটনায় ৪৫ জন কারাগারে

এনইআইআর চালুর বিরোধিতায় বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ৪৫ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান।

৯০ দিন ফোন বন্ধ হবে না

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, এনইআইআর চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

google-site-verification=1ANNK1RMHaj1Iw7yR8eRAr3R5K-aLbxTqN87o-pnte8 google-site-verification: google05340dd170c353ef.html