EMail: corporatenews100@gmail.com
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) বাংলাদেশি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। গতকাল প্রকাশিত জিও নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সরাসরি আকাশপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সিএএর মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাংলাদেশকে ফ্লাইট পরিচালনার ছাড়পত্র প্রদান করেন। এই অনুমোদন প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এছাড়া পাকিস্তানের আকাশসীমার নির্ধারিত রুট ব্যবহার করার অনুমতিও পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ। তবে সিএএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় নির্দিষ্ট ফ্লাইটপথ মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগেই করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পূর্ণ ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সিএএর কর্মকর্তাদের বরাতে জিও নিউজ জানায়, সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকেই ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে পারে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান এর আগে জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস করাচি রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে করাচির আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৩৭০ কিলোমিটার। বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট নিতে হয়। ফলে ভাড়া বেড়ে গড়ে এক লাখ টাকার বেশি হয়ে গেছে, যেখানে ২০১৯ সালে একই রুটে টিকিটের দাম ছিল আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা।
এদিকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। এই সময়ে সংস্থাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।
এ বছর বিমানের অপারেশনাল মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮৫ দশমিক ২১ কোটি টাকায়। নিট মুনাফার এই অঙ্ক গত বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারায় থাকল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি গত ১০ অর্থবছরের মধ্যে ৯ বছরই প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পরিবহন কার্যক্রমের দিক থেকেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ২১টি উড়োজাহাজ ব্যবহার করে দেশ ও বিদেশের মোট ৩০টি গন্তব্যে ৩৩ দশমিক ৮৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান। পাশাপাশি ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে আয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের উপরোক্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়।
করপোরেটনিউজ২৪, এইচএইচ