EMail: corporatenews100@gmail.com
গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যুতে ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে আপাতত সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর্কটিক অঞ্চল ঘিরে কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ায় তিনি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। এতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি হয়েছে। এই সমঝোতার প্রেক্ষাপটেই ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বলপ্রয়োগ নয়, কূটনৈতিক সমাধান
ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের কোনো ইচ্ছা তার নেই।
তার ভাষায়,
“এটি এমন একটি চুক্তি, যেখানে সবাই সন্তুষ্ট থাকবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি স্থায়ী সমাধানও হতে পারে। নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের দিক থেকে সবাই লাভবান হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসান মূলত গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অঞ্চলটি নিয়ে আগ্রহ দেখালেও সরাসরি দখলের পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে।
ন্যাটোর উদ্বেগ: রাশিয়া ও চীনের প্রভাব
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, বৈঠকে ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং আলোচনার মূল বিষয় ছিল আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা।
তার মতে, আর্কটিক অঞ্চল শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভবিষ্যতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ কারণে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কঠোর অবস্থান
এদিকে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন,
ডেনমার্কের অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।
গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকারও জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিজেরাই বজায় রাখতে চায়।
বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব
ট্রাম্পের নরম সুরের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যায়। বিশেষ করে মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা সাময়িকভাবে কেটে যাওয়ায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল ঘিরে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না। দীর্ঘমেয়াদে এই ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে আসতে পারে।
কনি/জিএন