EMail: corporatenews100@gmail.com
বিশ্বজুড়ে করপোরেট পেশাজীবী বা তথাকথিত ‘হোয়াইট কলার’ কর্মীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক বিল গেটস। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে দ্রুত কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে, তাতে বহু দেশই নীতিগতভাবে প্রস্তুত নয়। এর প্রভাব শুধু অফিসভিত্তিক চাকরিতে নয়, শ্রমজীবী খাতেও গভীরভাবে পড়তে যাচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এসব কথা বলেন।
৪–৫ বছরের মধ্যেই বড় পরিবর্তন
বিল গেটস বলেন, “আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই হোয়াইট কলার ও ব্লু কলার—দুই ধরনের কর্মসংস্থানেই বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। তখন সরকারগুলোকে বৈষম্য, ন্যায্যতা ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
তার মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তার আগের যেকোনো প্রযুক্তি বিপ্লবের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং ব্যাপক। ফলে কর্মবাজারে এর অভিঘাতও হবে তীব্র।
শুধু সুফল নয়, বড় ঝুঁকিও আছে
এআইয়ের ইতিবাচক দিক হিসেবে গেটস রোগ নিরাময়ে অগ্রগতি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং শিক্ষার বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সঠিক নীতিমালা ও প্রস্তুতি ছাড়া এআই অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
গেটসের ভাষায়, “মানুষকে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না, করব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে কি না—এই প্রশ্নগুলো খুব শিগগিরই সামনে চলে আসবে। এখন হয়তো প্রভাব সীমিত, কিন্তু এটি বেশিদিন থাকবে না।”
কোন খাতগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কল সেন্টার, কাস্টমার সাপোর্ট, লজিস্টিকস ও ডেটা বিশ্লেষণের মতো খাতে ইতোমধ্যেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে কম দক্ষতা ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো মানুষের হাত থেকে সরে যাচ্ছে।
বিল গেটসও এ প্রসঙ্গে বলেন, এআই শুধু উচ্চদক্ষ কাজ নয়, বরং অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতার অনেক কাজও প্রতিস্থাপন করছে। এর ফলে আয় ও সুযোগের বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন
গেটস মনে করেন, বেশিরভাগ সরকার এখনো এআই–সৃষ্ট পরিবর্তনের জন্য মানসিক ও নীতিগতভাবে প্রস্তুত নয়। কর্মসংস্থান হারানো মানুষের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন ধরনের চাকরি তৈরির বিষয়ে এখনই পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর
এই পরিস্থিতিতে বিল গেটস একক কোনো দেশের উদ্যোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, এআই একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি—এর সুফল ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত দরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, বিল গেটসের এই সতর্কবার্তা করপোরেট পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা, নীতি ও প্রস্তুতির ধরন বদলানো ছাড়া বিকল্প নেই।
Corporatenews24/Gn