EMail: corporatenews100@gmail.com
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় পরিবর্তন দেখা গেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পতনের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশীয় বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর হয়েছে ২৬ মার্চ থেকে। এতে করে এক ভরি স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় সমন্বয়।
নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, এই মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে, যা গহনার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার দামেও পতন ঘটেছে। প্রতি ভরি রুপার দাম ক্যারেট অনুযায়ী কমে এখন ৩ হাজার ৩২৪ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে মূল্যবান ধাতুর বাজারে সামগ্রিকভাবেই একটি নিম্নমুখী প্রবণতা চলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই পতনের পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা এখনও অনিশ্চিত, ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
একই সময়ে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার এই প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে বাজারে একধরনের দ্বৈত চাপ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বর্ণের বর্তমান মূল্যহ্রাস সাময়িক হলেও এর পেছনের বৈশ্বিক কারণগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। যারা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি সুযোগ হতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা জরুরি।
করপোরেট নিউজ ২৪/ এইচএইচ