EMail: corporatenews100@gmail.com
পূর্ণ গাইড, নিয়ত, তাকবির ও ঈদের দিনের সুন্নত
ঈদুল আজহা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত দিন। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে এই দিনটি শুরু হয় দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদের নামাজের মাধ্যমে। প্রতি বছর অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ম, অতিরিক্ত তাকবির কিংবা নিয়ত নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। তাই সহজ ভাষায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পূর্ণ নিয়ম, সুন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
ঈদুল আজহার অর্থ কী?
‘ঈদুল আজহা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ— ত্যাগের উৎসব। এই দিনে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করেন এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের শিক্ষা স্মরণ করেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—
“অতএব তোমার রবের উদ্দেশেই নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।”
— সুরা আল কাউসার, আয়াত ২
ঈদের নামাজ কোথায় পড়তে হয়?
ঈদের নামাজ সাধারণত খোলা মাঠ বা ঈদগাহে আদায় করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।
তবে প্রয়োজন হলে—
- ঈদগাহে
- মসজিদে
- বড় জামাতের উপযোগী স্থানে
ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ঈদের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়।
ঈদুল আজহার নামাজ কয় রাকাত?
ঈদের নামাজ দুই রাকাত ওয়াজিব।
এ নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—
অতিরিক্ত ৬টি তাকবির।
এ নামাজে কোনো আজান বা ইকামত নেই।
ঈদের নামাজের নিয়ত
ঈদের নামাজের নিয়ত
نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াঝিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
বাংলায় নিয়তের অর্থ মনে রাখাই যথেষ্ট।
নিয়তের বাংলা অর্থ:
“আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদের নামাজ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায় করছি।”
ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
প্রথম রাকাত
১. তাকবিরে তাহরিমা
ইমামের সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে নামাজ শুরু করবেন।
২. সানা পড়বেন
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা… শেষ করবেন।
৩. অতিরিক্ত তিন তাকবির
- প্রথম তাকবির → হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- দ্বিতীয় তাকবির → হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- তৃতীয় তাকবির → হাত উঠিয়ে হাত বেঁধে নিন
প্রতিটি তাকবিরের মাঝে সংক্ষিপ্ত বিরতি থাকবে।
৪. কেরাত
ইমাম আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়বেন।
৫. রুকু ও সিজদা
স্বাভাবিক নিয়মে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।
দ্বিতীয় রাকাত
১. সুরা ফাতিহা ও সুরা তিলাওয়াত
ইমাম কেরাত শেষ করবেন।
২. অতিরিক্ত তিন তাকবির
আবার তিনবার অতিরিক্ত তাকবির দেওয়া হবে—
- প্রথম তাকবির → হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- দ্বিতীয় তাকবির → হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- তৃতীয় তাকবির → হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
৩. রুকুতে যাওয়া
এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে চলে যাবেন।
৪. নামাজ সম্পন্ন
সিজদা শেষে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাতে হবে।
ঈদের তাকবির
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَلِلَّهِ الْحَمْد
উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
ঈদের নামাজ শেষে কী করতে হয়?
ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম দুইটি খুতবা প্রদান করেন।
মুসল্লিদের উচিত—
- খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
- অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা
- খুতবার আগে চলে না যাওয়া
ঈদের দিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমল
✅ গোসল করা
✅ মিসওয়াক করা
✅ সুগন্ধি ব্যবহার করা
✅ পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা
✅ ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া (সম্ভব হলে)
✅ এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া, অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা
✅ তাকবির পড়তে পড়তে যাওয়া
✅ হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে দেখা করা
✅ আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া
✅ ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা
ঈদুল আজহায় সুন্নত হলো নামাজের আগে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া, এরপর কোরবানির গোশত খাওয়া।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবির ভুল হয়ে গেলে বা সংখ্যা কম-বেশি হলে সাধারণত সাহু সিজদা প্রয়োজন হয় না—এ বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে স্থানীয় ইমাম বা নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।
ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা উৎসব নয়—এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগ, কৃতজ্ঞতা ও একতার শিক্ষা।
আরও পড়ুন : পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ কবে ?
সবার ঈদ হোক নিরাপদ, ইবাদতময় ও আনন্দে ভরপুর।