EMail: corporatenews100@gmail.com
আর্থিক রিপোর্ট : দেশের জ্বালানি খাতে চলমান চাপের মধ্যেই নতুন করে স্বস্তির খবর এসেছে। ২৬ মার্চ সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজে করে প্রায় ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে পৌঁছেছে। এতে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল, যা দেশের পরিবহন, শিল্প এবং বিমান চলাচল খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই চালানটি সরবরাহ করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক, যা সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আমদানি করা ডিজেল মূলত পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে, আর জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিলম্বের কারণে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সবগুলো সময়মতো পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন এই চালান কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে বড় ধরনের সংকট নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে আসে, যা দেশে পরিশোধন করা হয়। তবে বেশিরভাগই পরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি আমদানি করা হয় বিভিন্ন দেশ থেকে, যেমন ভারত, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
আগামী মাসগুলোতেও জ্বালানি আমদানির বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এপ্রিল মাসে একাধিক জাহাজ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও ফার্নেস তেল আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও সব চালানের নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি, তবুও কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন এই জ্বালানি চালান সাময়িকভাবে চাপ কমালেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
করপোরেট নিউজ২৪/ জিএনএস