EMail: corporatenews100@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরান তার শর্ত না মানলে “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে”।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান অসিম মুনির -এর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি জানিয়েছেন, যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ রাখবে। তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল সম্ভব হবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলও ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে এই যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানো হতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, “আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। কারণ সম্ভাব্য হামলা হলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে তেহরানে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে—এই যুদ্ধবিরতি বর্তমান সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করবে কিনা, নাকি কেবল বড় ধরনের হামলা স্থগিত রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পরবর্তী দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
করপোরেটনিউজ২৪/এইচএইচ