EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আবারও ফিরতে শুরু করেছে ইতিবাচক ধারা। দীর্ঘদিন পর বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই প্রবণতা বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সাম্প্রতিক লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দিনটির শুরু থেকেই শেয়ার কেনার প্রবল চাপ ছিল। ফলে দিনশেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ০.৭৮ শতাংশ বা ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,২৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ এবং শরিয়াহ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।
এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ার। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বড় মূলধনী এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাড়লে বাজারে আস্থা তৈরি হয়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করে।
লেনদেনের পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। ডিএসইতে মোট ১,০৫৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বশেষ এমন উচ্চ লেনদেন দেখা গিয়েছিল।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৌশল খাত লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে। এর পরেই রয়েছে বস্ত্র, সাধারণ বীমা, ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত। এই বহুমুখী অংশগ্রহণ বাজারের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়, কারণ এটি কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন কমেছে, যা বাজারের সার্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে।
স্টক এক্সচেঞ্জ কারেন্ট মার্কেট প্রাইস
কারেন্ট মার্কেট প্রাইস প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে। তবে এই ধারা স্থায়ী হবে কিনা, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর—যেমন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, এবং নীতিগত সহায়তা।
স্বল্পমেয়াদে বাজারে এমন উত্থান ইতিবাচক হলেও বিনিয়োগকারীদের উচিত সতর্ক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ পুঁজিবাজারে ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পুঁজিবাজারে এই উত্থান নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই গতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বিনিয়োগকারীরা কতটা আস্থা নিয়ে বাজারে অংশগ্রহণ চালিয়ে যান।
করপোরেট নিউজ ২৪/ এইচএইচ