USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

লোডশেডিং খবর

শহরেও লোডশেডিং: বৈষম্য কমাতে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এবার নতুন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার—গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য কমাতে শহরেও লোডশেডিং করা হবে। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এমন বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার।

 

বিদ্যুতের চাহিদা ও ঘাটতির বাস্তবতা

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় **১৬ হাজার মেগাওয়াটে**। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র **১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট**, ফলে প্রায় **২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি** তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এর পেছনে বড় কারণগুলোর একটি হলো কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারা। বিশেষ করে Adani Power এবং SS Power Plant রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পুরোপুরি চালু নেই। তবে সরকার আশা করছে, খুব শিগগিরই এসব কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

 

 কৃষিখাতে অগ্রাধিকার

 

বর্তমানে ফসল তোলার মৌসুম হওয়ায় কৃষিখাতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেচ ব্যবস্থায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কারণেই শহরে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায় প্রায় ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

 

 জ্বালানি সংকট: সমস্যার মূল কারণ

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান বাধা হলো গ্যাসের ঘাটতি। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় **৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট**, অথচ দেশীয় উৎপাদন মাত্র **১,৬১৬ মিলিয়ন ঘনফুট**। এর সঙ্গে আমদানিকৃত **৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট** যোগ হলেও প্রতিদিন প্রায় **১,১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি** থেকেই যাচ্ছে।

এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়, কারণ গ্যাস আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে সরকার জানিয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং অগ্রগতি শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

🔍 সামনে কী?

 

সরকারের এই পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে কৃষিখাতে উৎপাদন ধরে রাখতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো—জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

 

শহরেও লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত একটি সাহসী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, এই নীতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমানো যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.