USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

রাজস্ব সংবাদ : করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ল

আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা আসছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে কার্যকর হবে।

মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কত হলো নতুন করমুক্ত আয়ের সীমা?

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

* আগের করমুক্ত আয়: ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা
* নতুন করমুক্ত আয়: **৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা**

এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত করদাতারা তুলনামূলকভাবে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবেন।

কেন বাড়ানো হলো করমুক্ত আয়ের সীমা?

নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশে চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় কর কাঠামো কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করহার ও স্ল্যাবে কী পরিবর্তন আসছে?

চলতি বাজেট কাঠামো অনুযায়ী—

* ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করহার: ৩০ শতাংশ
* করের স্ল্যাবেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে

তবে ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

 ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ধনীদের ওপর বাড়তি কর

সূত্র অনুযায়ী, আগামী বাজেটে ‘সুপার রিচ’ বা অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো হলো—

* সারচার্জের পরিবর্তে **সম্পদ কর (Wealth Tax)** চালু
* উচ্চ সিসির গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধি
* বড় সম্পদের ওপর ধাপে ধাপে করহার নির্ধারণ

 প্রস্তাবিত সম্পদ কর হার:

* ৪–১০ কোটি টাকা সম্পদ: ০.৫০%
* ১০–২০ কোটি টাকা: ১%
* ২০–৫০ কোটি টাকা: ১.৫০%
* ৫০ কোটি টাকার বেশি: ২%

উচ্চ সিসির গাড়িতে বাড়ছে কর

প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ওপর কর বাড়তে পারে

* ৩০০১–৩৫০০ সিসি: ৪ লাখ টাকা (প্রস্তাবিত)
* ৩৫০০ সিসির বেশি: ৫ লাখ টাকা (প্রস্তাবিত)

তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহৃত ছোট ও মাঝারি গাড়ির ক্ষেত্রে কর অপরিবর্তিত থাকবে।

 কালোটাকা বৈধ করার নতুন কাঠামো

নতুন বাজেটে অপ্রদর্শিত সম্পদ রিটার্নে দেখানোর সুযোগ ফের আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এবার বিশেষ ছাড় নয়, নিয়মিত করহারেই এসব আয় বৈধ করার সুযোগ থাকবে।

এছাড়া সম্পদ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার কথাও আলোচনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে একই সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন না ওঠে।

করনীতি নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো মধ্যবিত্তের জন্য ইতিবাচক হলেও দেশের করজাল এখনো তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। তাই ভবিষ্যতে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো ও ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

অন্যদিকে সম্পদ কর ও অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপের উদ্যোগকে রাজস্ব ন্যায্যতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের করদাতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর কাঠামো কঠোর করার পরিকল্পনাও স্পষ্ট হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেট হতে যাচ্ছে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে রাজস্ব কাঠামো পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজেট।

করপোরেট নিউজ ২৪/ এইচ এইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.