EMail: corporatenews100@gmail.com
তেহরান : ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তাঁর তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের রাষ্ট্রীয় জানাজা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে খামেনির তিন ছেলে—মোস্তাফা খামেনি, মেইসাম খামেনি এবং মাসউদ খামেনি—কে বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নিতে দেখা যায়।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির অনুপস্থিতি। আলী খামেনির মৃত্যুর পর তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাবার রাষ্ট্রীয় জানাজায় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টিভিতে তিন ভাইয়ের উপস্থিতি
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, তেহরানের বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে রাখা পাঁচটি কফিনের পেছনে দাঁড়িয়ে দোয়া ও জানাজায় অংশ নিচ্ছেন মোস্তাফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি।
জানাজার সময় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিপুল জনসমাগমের কারণে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান বাড়িয়ে স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া হয়।
কেন অনুপস্থিত ছিলেন মোজতাবা?
সরকারিভাবে মোজতাবা খামেনির অনুপস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ বা নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের কারণে তিনি প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানজুড়ে চলবে শোকানুষ্ঠান
আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুধু তেহরানেই নয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরগুলোতেও ধারাবাহিক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিচের শহরগুলোতে বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে—
কোম (Qom)
ইরাকের নাজাফ (Najaf)
ইরাকের কারবালা (Kerbala)
মাশহাদ (Mashhad)
এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং লাখো শোকাহত মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিপুল জনসমাগমে বাড়ানো হয় জানাজার সময়
তেহরানের জানাজায় মানুষের ঢল নামায় নিরাপত্তা বাহিনীকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়। বিপুল ভিড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় অনুষ্ঠান চালানো হয়, যাতে সবাই শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক নজরে ইরানের ক্ষমতার পরিবর্তন
আলী খামেনির মৃত্যু এবং মোজতাবা খামেনির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে নতুন নেতৃত্বের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: রয়টার্স