Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

চোরাকারবারি চক্রের যে ফাঁদে পড়ছে প্রবাসীরা

বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকির নতুন কৌশল

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য আনার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬—এই ছয় মাসে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করে ২৪ হাজার ৩৫৩ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ৮ হাজার ৭৫৬ পিস বিউটি ক্রিম ও সিরাম জব্দ করেছে।

বিমানবন্দর কাস্টমসের সাম্প্রতিক জব্দ তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোনার পরিবর্তে এখন বিদেশি সিগারেট, কসমেটিকস, ই-সিগারেট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য চোরাচালানে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে একটি চক্র।

৬ মাসে জব্দ ২৪ হাজারের বেশি কার্টন বিদেশি সিগারেট

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মোট ২৪,৩৫৩ কার্টন অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান:

মাস জব্দকৃত সিগারেট
ডিসেম্বর ২০২৫ ৬,৫৪২ কার্টন
জানুয়ারি ২০২৬ ১,৯৯৭ কার্টন
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪,৩৩৪ কার্টন
মার্চ ২০২৬ ১,৪৫৬ কার্টন
এপ্রিল ২০২৬ ৪,১৯১ কার্টন
মে ২০২৬ ৫,৮৩৪ কার্টন + ১,০৬৫ পিস খোলা সিগারেট

সবচেয়ে বেশি সিগারেট জব্দ হয় ডিসেম্বর ২০২৫ এবং মে ২০২৬ মাসে।

বিউটি ক্রিম ও কসমেটিকসেও বড় চালান

সিগারেটের পাশাপাশি বিদেশি কসমেটিকসও বড় পরিসরে দেশে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

গত ছয় মাসে কাস্টমস জব্দ করেছে মোট ৮,৭৫৬ পিস বিউটি ক্রিম, গৌরি ক্রিম ও হোয়াইটেনিং সিরাম।

মাসভিত্তিক জব্দের তথ্য:

  • ডিসেম্বর: ১,৬৪৯ পিস বিউটি ক্রিম
  • জানুয়ারি: ৫৮১ পিস বিউটি ও গৌরি ক্রিম
  • ফেব্রুয়ারি: ২,২১৪ পিস বিউটি ক্রিম
  • মার্চ: ৯২২ পিস বিউটি ক্রিম ও ১৮ পিস গৌরি ক্রিম
  • এপ্রিল: ৬৫২ পিস বিউটি ক্রিম, ২০৯ পিস গৌরি ক্রিম ও ১৩৮ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম
  • মে: এক চালানেই ২,৭৫১ পিস বিউটি ক্রিম

ই-সিগারেট, ভ্যাপ, গুটখা ও বিদেশি মদও জব্দ

কাস্টমসের নজরদারিতে শুধু সিগারেট নয়, ই-সিগারেট ও তামাকজাত অন্যান্য পণ্যও নিয়মিত ধরা পড়ছে।

ছয় মাসে জব্দ হওয়া উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে—

  • ই-সিগারেট
  • ভ্যাপ
  • ই-সিগারেটের পার্টস
  • হুক্কা সামগ্রী
  • গুটখা
  • জর্দা
  • ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ

এসব পণ্যের বেশিরভাগই যাত্রীদের ব্যক্তিগত লাগেজে লুকিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সোনার বদলে কেন সিগারেট ও কসমেটিকস?

একসময় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে বড় বড় সোনার চালান জব্দের খবর নিয়মিত পাওয়া গেলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

গত ছয় মাসে মাত্র—

  • ডিসেম্বর: ২২.১৯ গ্রাম সোনা
  • জানুয়ারি: ১১১ গ্রাম (কাস্টমস ইউনিট) ও ৯১ গ্রাম (এয়ারফ্রেইট ইউনিট)

মোট জব্দকৃত সোনার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০ টাকা। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কোনো সোনা জব্দের তথ্য নেই।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, সোনা চোরাচালানে কঠোর আইন ও শাস্তির কারণে চোরাকারবারি চক্র এখন লাভজনক বিদেশি সিগারেট ও কসমেটিকসের দিকে ঝুঁকছে।

সাধারণ প্রবাসীদের ব্যবহার করছে চক্র

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য প্রবেশ এবং মুদ্রা পাচার ঠেকাতে কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ চলছে।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, বর্তমানে কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটির যৌথ নজরদারির কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি বাণিজ্যিক পণ্য কাস্টমস হলে জব্দ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক সাধারণ প্রবাসী না বুঝেই চোরাকারবারি চক্রের দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য নিজেদের লাগেজে বহন করেন, যা আইনত দণ্ডনীয়। তাই অন্যের দেওয়া কোনো প্যাকেট বা মালামাল বহন না করার জন্য যাত্রীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কাস্টমসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকির ধরন বদলেছে। সোনার পরিবর্তে এখন বিদেশি সিগারেট, বিউটি ক্রিম, ই-সিগারেট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য আনার প্রবণতা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে এই ধরনের অবৈধ বাণিজ্য আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

করপোরেটনিউজ24, এসটি

Leave A Reply

Your email address will not be published.