EMail: corporatenews100@gmail.com
ক্লিনিকাল ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় হোমিও চিকিৎসার কার্যকারিতা
প্রমাণিত হলে প্রতারণার সুযোগ নেই
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা—একটি নাম, যা শুনলেই আজও সমাজের একটি বড় অংশের মনে সংশয় তৈরি হয়। আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের কাছে হোমিওপ্যাথি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিযোগ একটাই—এর কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড ও ক্লিনিকাল পরীক্ষার অভাব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কোনো হোমিও চিকিৎসা পদ্ধতির ফলাফল ক্লিনিকাল ল্যাবরেটরির পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়, তাহলে কি সেখানে প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকে?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো প্রমাণ। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় ও আরোগ্য নির্ধারণে রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে, হরমোনাল প্রোফাইল, কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্টের মতো ক্লিনিকাল পরীক্ষাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতির ব্যবহার খুবই সীমিত ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হোমিও চিকিৎসার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হোমিওপ্যাথির দর্শন অনুযায়ী, রোগ আসলে আলাদা কোনো সত্তা নয়; এটি মানবদেহের ভেতরের অসামঞ্জস্যের বহিঃপ্রকাশ। দেহের প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই বিভিন্ন রোগের জন্ম হয়। এই কারণেই হোমিওপ্যাথিতে রোগের চিকিৎসা না করে রোগীর চিকিৎসাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। হোমিও চিকিৎসকদের দাবি, প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বোড়ানোর মাধ্যমে ঠিক থাকলে মানুষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ থাকতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো—এই তত্ত্ব যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা প্রমাণ না করা গেলে বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এখানেই হোমিও চিকিৎসার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বহু হোমিও চিকিৎসক চিকিৎসা চলাকালীন বা চিকিৎসা শেষে রোগীর উন্নতি ক্লিনিকাল টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে হোমিওপ্যাথি একটি অবহেলিত ও অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রূপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি মূলত চিকিৎসা পদ্ধতির নয়, বরং পদ্ধতির প্রয়োগকারীদের। যেমন একটি উন্নতমানের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে দোষ গাড়ির চেয়ে চালকের ওপরই বর্তায়। ঠিক তেমনি, হোমিওপ্যাথি দুর্বল নয়; দুর্বলতা রয়েছে হোমিও চিকিৎসকের অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিক প্রয়োগে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে S.H-2000 পদ্ধতির হোমিও চিকিৎসা। এই পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— চিকিৎসা শুরুর পর ক্ষেত্রবিশেষে সর্বনিম্ন ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর উন্নতি বা অবনতি ক্লিনিকাল ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। ফলে রোগী শুধু উপসর্গের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করেন না; বরং পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে নিজের অবস্থার বাস্তব চিত্র বুঝতে পারেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লিনিকাল প্রমাণ যুক্ত হলে যেকোনো চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়। হোমিও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কিডনি স্টোন, অ্যাজমা, ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড, থাইরয়েড সমস্যা, পাইলস, পিঠের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস ও পিসিওএসের মতো জটিল রোগে S.H-2000 পদ্ধতিতে চিকিৎসার পর বহু রোগীর উন্নতি পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রশ্ন। আধুনিক অনেক চিকিৎসায় দ্রুত উপশম মিললেও দীর্ঘমেয়াদে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। বিপরীতে, এই হোমিও চিকিৎসায় মানবদেহের প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয় বলে উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না—এমনটাই দাবি চিকিৎসকদের।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই, যা মানবদেহের প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস না পেলে সৃষ্টি হয়। তাই দীর্ঘস্থায়ী আরোগ্যের জন্য ইমিউনিটি শক্তিশালী করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তবে এই ধারণাও তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তার ফলাফল পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যায়।
আজকের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ হোমিওপ্যাথিকে চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে মানতে দ্বিধাগ্রস্ত মূলত এই প্রমাণের অভাবের কারণেই। বাস্তবে খুব কম হোমিও চিকিৎসকই চিকিৎসার আগে ও পরে ক্লিনিকাল রিপোর্টের মাধ্যমে রোগীর অবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। ফলে হোমিও চিকিৎসার বিরোধীদের সন্দেহ দূর হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হোমিও চিকিৎসাকে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক ধারায় নিয়ে আসতে হবে। S.H-2000 পদ্ধতি সেই পথেরই একটি উদ্যোগ। বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসার ফলাফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে—এমন দাবি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের।
সবশেষে বলা যায়, যে চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ক্লিনিকাল ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় প্রমাণিত, সেখানে প্রতারণার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। হোমিওপ্যাথি যদি সেই প্রমাণের মানদণ্ডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে একে আর অবৈজ্ঞানিক বা প্রতারণামূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন হবে।
স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপদ, কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার ওপর হোক না তা অলটারনেটিভ মেডিসিন।
বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার উন্নতি বা অবনতি ক্লিনিকাল ল্যাবরেটরির পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত যাচাই
করে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে S.H-2000 পদ্ধতির উদ্ভাবক
অর্গানন হোমিও হিলিং হোম, ২৮/এ, শফি ভিলা, সিডিএ এভিনিউ
(মুরাদপুর-বহদ্দারহাটের মাঝখানে) চট্টগ্রাম। 01711-424704