EMail: corporatenews100@gmail.com
চেতনার পরিবর্তন ছাড়া সংস্কার কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন সমন্বিত দুর্নীতিবিরোধী সেমিনারে বক্তারা। তারা বলেছেন, দেশে সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানুষের চেতনার সংস্কার।
সম্মিলিত দেশপ্রেমিক শক্তি (সদেশ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত দেশে ‘সৎ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ২০ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুর রহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় ও ড. মো. শাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান বীরবিক্রম। অনুষ্ঠানে ‘দেশে সৎ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লে. কর্নেল আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, উন্নত দেশগুলো চেতনাগতভাবে এগিয়ে থাকায় সেসব দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পেরেছে। অথচ আমাদের দেশের জনগণের একটি বড় অংশ পরোক্ষ অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই মনে করেন না। ফলে তাদের মধ্যে অপরাধবোধ সৃষ্টি হয় না।
তারা বলেন, চেতনার সংস্কারের মাধ্যমে যদি এসব কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে মানুষের মানসিকতায় স্থাপন করা যায়, তাহলে অপরাধবোধ জাগ্রত হবে এবং ধীরে ধীরে অপরাধ ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে।
তারা আরও বলেন, সৎ পরিবেশ গড়ে তুলতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। চীন ও জাপানের মতো দেশগুলোর আদলে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সততার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের শতভাগ সৎ হয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।তারা নিজেরা সৎ না হলে কোনো সংস্কারই কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক ডেসটিনির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, জিন্নাত আরা ইফা, নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
কনি/ এইচএইচসি