USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

স্বর্ণ কেনার সময় যেসব বিষয়ে জানা জরুরি

সচেতন ক্রেতার পূর্ণ গাইড

স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়—এটি নিরাপদ বিনিয়োগ, পারিবারিক সম্পদ এবং সামাজিক আভিজাত্যের প্রতীক। বিয়ে, উপহার বা ভবিষ্যতের সঞ্চয়—যে কারণেই স্বর্ণ কিনুন না কেন, কিছু মৌলিক বিষয় না জানলে সহজেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই স্বর্ণ কেনার সময় যেসব বিষয়ে জানা জরুরি, সেগুলো নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।


ক্যারেট কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা বোঝাতে আন্তর্জাতিকভাবে “ক্যারেট” একক ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বললে, একটি গহনায় কত অংশ খাঁটি স্বর্ণ আছে সেটিই ক্যারেট নির্ধারণ করে।

  • ২৪ ক্যারেট: প্রায় শতভাগ খাঁটি স্বর্ণ। খুব নরম হওয়ায় সাধারণত কয়েন বা বার আকারে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়।
  • ২২ ক্যারেট: প্রায় ৯১.৬৭% খাঁটি স্বর্ণ। বাংলাদেশে গহনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।
  • ২১ ক্যারেট: প্রায় ৮৭.৫% খাঁটি। বেশি টেকসই, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
  • ১৮ ক্যারেট: ৭৫% স্বর্ণ, ২৫% অন্যান্য ধাতু। হীরা বা পাথর বসানো গহনায় বেশি ব্যবহৃত।

অনেকে ভাবেন কম ক্যারেট মানেই ভেজাল। বাস্তবে বিষয়টি উল্টো—গহনা টেকসই করতে খাঁটি নরম স্বর্ণের সঙ্গে অন্যান্য ধাতু মেশানো হয়।


‘খাদ’ মেশানো মানেই কি প্রতারণা?

স্বর্ণে তামা, রূপা বা দস্তার মতো ধাতু মেশানোকে বলা হয় ‘খাদ’। এটি প্রতারণা নয়; বরং গহনা শক্ত ও ব্যবহারযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে খাদ যত বেশি, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা তত কমে—এ কারণেই ক্যারেট কমে যায়।


হলমার্ক: আসল স্বর্ণ চেনার প্রধান উপায়

স্বর্ণ কেনার সময় যেসব বিষয়ে জানা জরুরি, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হলমার্ক

হলমার্ক হলো গহনার গায়ে খোদাই করা মানচিহ্ন, যা স্বর্ণের বিশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়। সাধারণ হলমার্ক নম্বরগুলো হলো:

  • ২৪ ক্যারেট: ৯৯৯
  • ২২ ক্যারেট: ৯১৬
  • ২১ ক্যারেট: ৮৭৫
  • ১৮ ক্যারেট: ৭৫০

গহনা কেনার আগে এই সিল আছে কি না যাচাই করা উচিত। হলমার্ক থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক কমে।


ওজনের একক নিয়ে বিভ্রান্তি

বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনাবেচায় ভরি, আনা, রতি বহুল প্রচলিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে হিসাব হয় গ্রাম বা ট্রয় আউন্সে।

গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরগুলো:

  • ১ ভরি ≈ ১১.৬৬ গ্রাম
  • ১ ট্রয় আউন্স ≈ ৩১.১০ গ্রাম
  • ১৬ আনা = ১ ভরি

বেশিরভাগ দোকান ভরির হিসাব বললেও তাদের প্রকৃত হিসাব হয় গ্রামে। তাই গ্রাম অনুযায়ী দাম বুঝে নেওয়া বেশি নির্ভুল।


কেডিএম সোনা নিয়ে সতর্কতা

একসময় “কেডিএম সোনা” নামে পরিচিত গহনায় ক্যাডমিয়াম মেশানো হতো, যা গহনা শক্ত করলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে অনেক দেশেই এটি নিষিদ্ধ। তাই কেনার সময় জেনে নিন গহনাটি ক্যাডমিয়ামমুক্ত কি না।


দামের হিসাব কীভাবে বুঝবেন

স্বর্ণের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে। সাধারণত দাম নির্ধারণ হয়:

  • আন্তর্জাতিক বাজারদর
  • ডলার রেট
  • স্থানীয় চাহিদা
  • পরিশোধন খরচ

মনে রাখবেন, গহনার দামের সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হয়। তাই শুধু স্বর্ণের বাজারদর দেখলে মোট খরচ বোঝা যায় না।


সচেতন ক্রেতার জন্য শেষ পরামর্শ

স্বর্ণ কেনার সময় যেসব বিষয়ে জানা জরুরি, তার সারকথা হলো:

  • ক্যারেট বুঝে কিনুন
  • হলমার্ক দেখুন
  • গ্রাম হিসেবে ওজন বুঝুন
  • মজুরি ও ভ্যাট জেনে নিন
  • বিশ্বস্ত দোকান বেছে নিন

স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ। তাই আবেগের চেয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিলে আপনার বিনিয়োগই নিরাপদ থাকবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন : আজকের স্বর্ণের দাম 

করপোরেট নিউজ২৪/এসি

Leave A Reply

Your email address will not be published.