USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

ইইউ–ভারত এফটিএ : পোশাকশিল্পে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে ভারতের পণ্য ইউরোপের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে—যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বাস্তবতা, যা সামনে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধাকে সংকুচিত করতে পারে।

ইইউ–ভারত চুক্তি কোথায় দাঁড়িয়ে

দীর্ঘ আলোচনার পর জানুয়ারির শেষদিকে নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি ঘোষিত হয়। দুই পক্ষই এটিকে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে। বর্তমানে এটি আইনি পর্যালোচনার ধাপে আছে। চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর কার্যকর হতে সময় লাগবে, তবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো সুবিধা চালু হবে।

চুক্তি কার্যকর হলে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশ ভারতের প্রায় সব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, পাদুকা, সামুদ্রিক পণ্য, রত্ন–অলংকার ও রাসায়নিক পণ্য রয়েছে।

কেন এটি বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি

বাংলাদেশ এখন এলডিসি দেশ হিসেবে ইউরোপে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। অন্যদিকে ভারতীয় পোশাকে এখনো শুল্ক আরোপিত। এফটিএ চালু হলে সেই শুল্ক কমে শূন্যে নামবে। ফলে একই বাজারে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের বড় সুবিধা হলো কাঁচামালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। তুলা, সুতা, কাপড় থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি—সবই দেশেই উৎপাদন করতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশকে অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়, যা খরচ বাড়ায় এবং সময়ও বেশি লাগে।

এলডিসি উত্তরণের চাপ

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কয়েক বছর ট্রানজিশন সুবিধা পেলেও তা স্থায়ী নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত না করতে পারলে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক গুনতে হবে। তখন ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশ শূন্য শুল্কে পণ্য পাঠাতে পারলে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

রপ্তানি চিত্র কী বলছে

ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সেখানে হাজার কোটি ইউরোর বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে, যা ভারতের রপ্তানির তুলনায় অনেক বড়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক সুবিধা বদলে গেলে এই ব্যবধান দ্রুত কমে যেতে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির বড় অংশই যায় ইইউতে, এবং তৈরি পোশাক খাতই এর মূল চালিকাশক্তি।

নীতিগত প্রস্তুতির প্রশ্ন

শিল্প–সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও দরকষাকষির দক্ষতা যথেষ্ট নয়। দক্ষ নেগোসিয়েশন টিম, দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবের কথা উঠে আসছে বারবার।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য এখন দ্রুত দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এই বাস্তবতায় পিছিয়ে থাকলে বাংলাদেশের জন্য বাজার ধরে রাখা কঠিন হবে।

সামনে কী করা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কিছু বিষয়ে জোর দিতে হবে:

  • ইইউর সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য আলোচনা শুরু
  • জিএসপি প্লাস বা সমমানের সুবিধা নিশ্চিতের কৌশল
  • কাঁচামালে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেগোসিয়েশনে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা

আরও পড়ুন : এবার কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উধাও পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক

তৈরি পোশাকশিল্পে বিপদ সংকেত স্পষ্ট হলেও এটিকে সুযোগে রূপ দেওয়ারও সময় আছে। সময়মতো কৌশল বদলাতে পারলে বাংলাদেশ তার প্রধান রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু দেরি হলে প্রতিযোগীরা এগিয়ে যাবে—আর সেই ব্যবধান পুষিয়ে নেওয়া সহজ হবে না।

করপোরেট নিউজ ২৪/ এসি

Leave A Reply

Your email address will not be published.