EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষভাবে সরাসরি শিপিং যোগাযোগ চালু এবং হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য, পরিবহন দক্ষতা ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দেশটির পরিবহন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বাণিজ্য ও পরিবহন সংযোগ জোরদারে আলোচনা
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময়
-
পরিবহন যোগাযোগ বৃদ্ধি
-
বাণিজ্য সহজিকরণ
-
লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস
-
বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ
-
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ
এসব বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
উভয় পক্ষই একমত হন যে, সরাসরি শিপিং সেবা চালু হলে পরিবহন সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।
সরাসরি শিপিং এমওইউ চূড়ান্তের অগ্রগতি
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। হাইকমিশনার এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতির কথা মন্ত্রীকে জানান এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এমওইউ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সরাসরি শিপিং চালু হলে লজিস্টিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে, যা দুই দেশের রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে।
হালাল খাদ্য শিল্পে বড় সম্ভাবনা
বৈঠকে হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ড. নাজমুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন হালাল খাদ্যপণ্য—
-
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
-
পানীয়
-
প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রী
সরবরাহের সক্ষমতা রাখে। এ খাতে বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
মালদ্বীপের আগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা
মালদ্বীপের পরিবহন মন্ত্রী সরাসরি শিপিং উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, এটি কার্গো পরিবহন সহজ করবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াবে এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। তিনি মালদ্বীপের বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো কার্গো পরিবহনে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অতীতে সংকটকালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে বাংলাদেশের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এটি দুই দেশের দৃঢ় বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে
হাইকমিশনার আরও জানান, মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স ২০২৬ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ রুটে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি শিপিং, হালাল খাদ্য রপ্তানি এবং বিমান যোগাযোগ চালু হলে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।