EMail: corporatenews100@gmail.com
দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও সচল হয়েছে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম। তবে কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর একসঙ্গে জমে ওঠা চাপ সামলাতে গিয়ে বন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট ও অপারেশনাল চাপ। এর মধ্যেই কাল থেকে পুনরায় লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলো।
গতকাল সকাল থেকেই বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। এতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এলাকায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মবিরতির কারণে কয়েক দিন আটকে থাকা পণ্যবাহী যানবাহন একসঙ্গে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে থাকায় ফটকগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হয়।
বার্থ অপারেটর সূত্র জানায়, দীর্ঘ বিরতির পর শ্রমিকরা কাজে ফেরায় জেটিতে নোঙর করা জাহাজগুলো থেকে ক্রেনের মাধ্যমে দ্রুত কনটেইনার খালাস করা হচ্ছে। তবে আমদানিকারক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পণ্য ছাড়ের চাপের কারণে বন্দরের ভেতরে অপারেশনাল ঝুঁকিও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মধ্যে ১৫ জন কর্মচারীকে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের দিনই প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সাময়িকভাবে দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে আপাতত দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর জমে থাকা চাপ স্বাভাবিক করতে আরও সময় লাগবে। এর মধ্যে আবার কর্মসূচি শুরু হলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিতে পারে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নতুন করে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না হলে আগামীকাল থেকেই লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে।
গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামে স্কপের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতারা জানান, রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আলোচনার পর বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
স্কপের দাবি, আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। এসব পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও গর্হিত’ আখ্যা দিয়ে নেতারা বলেন, এতে আন্দোলন দমবে না।
সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আজকের মধ্যে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে।
কিরপোরেট নিউজ ২৪/ এইচএইচ