USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

ডিজিটাল ব্যাংক: কাগজবিহীন ব্যাংকিং যুগের সূচনা, কারা চাইছে লাইসেন্স?

ডিজিটাল ব্যাংক: কাগজবিহীন ব্যাংকিং যুগের সূচনা, কারা চাইছে লাইসেন্স?

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে নতুন অধ্যায় খুলতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর, শাখাবিহীন ও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রাহকসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডিজিটাল ব্যাংক কী?

ডিজিটাল ব্যাংক হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক, যার সব কার্যক্রম—অ্যাকাউন্ট খোলা, আমানত গ্রহণ, ঋণ বিতরণ, বিল পরিশোধ, টাকা স্থানান্তর—মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে প্রচলিত ব্যাংকের মতো শাখা-উপশাখা থাকে না বা খুব সীমিত থাকে।

এটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) থেকে আলাদা। কারণ ডিজিটাল ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদান করতে পারে।


ডিজিটাল ব্যাংকের কাজের পরিধি

ডিজিটাল ব্যাংক সাধারণ ব্যাংকের মতোই সেবা দেবে, তবে সবই অনলাইনে:

  • সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা
  • অনলাইন টাকা স্থানান্তর (দেশীয় ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক)
  • ক্ষুদ্র, এসএমই ও ব্যক্তিগত ঋণ বিতরণ
  • ডেবিট/ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু
  • বিল, ট্যাক্স ও ফি পরিশোধ
  • রেমিট্যান্স গ্রহণ

💰 কোন মুদ্রায় লেনদেন?

মূলত বাংলাদেশি টাকা (BDT) তে লেনদেন হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় নির্দিষ্ট সেবা—যেমন রেমিট্যান্স গ্রহণ বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট—সুবিধা থাকতে পারে।


📊 সুদের হার ও চার্জ কেমন হতে পারে?

ডিজিটাল ব্যাংকের সুদহার ও চার্জ নির্ধারণ হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী। যেহেতু শাখা পরিচালনার খরচ কম, তাই—

  • আমানতে তুলনামূলক বেশি মুনাফা/সুদ
  • ঋণে প্রতিযোগিতামূলক সুদহার
  • কম সার্ভিস চার্জ

—এমন প্রত্যাশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


🏦 কারা ডিজিটাল ব্যাংক চায়?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। উল্লেখযোগ্য আবেদনকারীরা হলেন:

  • ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি
  • ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান (উদ্যোক্তা: DK Bank, ভুটান)
  • আমার ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: ২২টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা)
  • ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি (উদ্যোক্তা: ১৬ ব্যক্তি)
  • বুস্ট (উদ্যোক্তা: রবি আজিয়াটা লিমিটেড)
  • আমার ব্যাংক (কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা)
  • অ্যাপ ব্যাংক (উদ্যোক্তা: যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়েক ব্যক্তি)
  • নোভা ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ)
  • মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি (উদ্যোক্তা: আশা)
  • জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: ডিবিএল গ্রুপ)
  • মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: আকিজ রিসোর্স)
  • বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: বিকাশ–এর শেয়ারধারীরা)
  • উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক (উদ্যোক্তা: আইটি সলিউশন লিমিটেড)

📈 কেন ডিজিটাল ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ?

১. গ্রাহককে ব্যাংকে না গিয়ে সেবা পাওয়ার সুযোগ
২. গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
৩. নগদ লেনদেন কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা
৪. তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের সহজ ঋণপ্রাপ্তি


⚠️ চ্যালেঞ্জ কী?

  • সাইবার নিরাপত্তা
  • প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা
  • গ্রাহকের ডিজিটাল সচেতনতা
  • আস্থার সংকট

ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় রূপান্তর আসতে পারে। তবে সফলতা নির্ভর করবে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও গ্রাহক আস্থার ওপর। এখন নজর সবার—কে পাবে লাইসেন্স, আর কেমন হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকের যাত্রা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.