EMail: corporatenews100@gmail.com
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা সংকট বাড়তে থাকায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী কোম্পানিগুলোর আরোপ করা অতিরিক্ত সারচার্জ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফেডারেল মেরিটাইম কমিশন (এফএমসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি হলেও নতুন চার্জ অবশ্যই মার্কিন শিপিং আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফএমসি জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার কারণে কনটেইনার পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে নতুন চার্জ আরোপ করছে তা শিপিং অ্যাক্ট অব ১৯৮৪ অনুযায়ী বৈধ কি না—তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি বাড়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো জ্বালানি ও যুদ্ধঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত খরচ আরোপ করছে। তবে এসব চার্জ যেন অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক না হয়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বের বড় শিপিং কোম্পানি এপি মোলার – মার্কস সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বৈশ্বিক ইমারজেন্সি বাঙ্কার সারসার্জ ইবিএস চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারে প্রায় ২০০ ডলার এবং ৪০ ফুট কনটেইনারে প্রায় ৪০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে। রেফ্রিজারেটেড কনটেইনারে এই চার্জ আরও বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগরগামী বা সেখান থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু রুটে জরুরি ফ্রেইট বৃদ্ধি আরোপ করা হয়েছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ২০ ফুট কনটেইনারে ১,৮০০ ডলার এবং ৪০ ফুট কনটেইনারে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
শুল্ক নিয়ম এখনও কার্যকর
এফএমসি জানায়, জরুরি পরিস্থিতি থাকলেও বিদ্যমান ট্যারিফ নিয়ম বহাল রয়েছে। সাধারণত কোনো নতুন চার্জ কার্যকর করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছ থেকে স্পেশাল পারমিশন (SP) নিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করতে পারে।
শিপারদের জন্য সতর্কতা
কমিশন শিপারদের তাদের সেবা চুক্তি ভালোভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিপিং কোম্পানির ট্যারিফ সরাসরি চুক্তির অংশ হওয়ায় নতুন চার্জ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।
এদিকে চলমান সংঘাতে ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক হামলা, যুদ্ধঝুঁকি বীমা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?
পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট একটি জলপথ… কিন্তু এর উপর নির্ভর করে পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ।
এই পথটির নাম হরমুজ প্রণালী।
প্রশ্ন হচ্ছে—যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় এই প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে?
হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু সমুদ্রপথ।
এর প্রস্থ মাত্র প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
কিন্তু এই ছোট পথ দিয়েই প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল চলাচল করে।
অর্থাৎ, পৃথিবীর মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক—
তাদের বেশিরভাগ তেল এই পথ দিয়েই রপ্তানি করে।
এছাড়া কাতার, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় LNG (Liquefied Natural Gas) রপ্তানিকারক,
তার প্রায় সব গ্যাসই পাঠায় এই প্রণালী দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা করেছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়তে থাকে
এবং বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জ্বালানি সরবরাহ বিপদে পড়ছে।
জিএনএস