USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

২২ ক্যারেটের ভরি কমে দাঁড়াল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা

২৬ এপ্রিল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। টানা ঊর্ধ্বগতির পর এবার স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।

বাজুস জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে, যা স্বর্ণ ক্রেতাদের পাশাপাশি রুপা ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

কমল ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর নিম্নমুখী হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে পরিশোধিত স্বর্ণের (তেজাবি স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয় আনা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী—

স্বর্ণের ধরন প্রতি ভরি নির্ধারিত মূল্য
২২ ক্যারেট স্বর্ণ ২,৪৬,৯২৭ টাকা
২১ ক্যারেট স্বর্ণ ২,৩৫,৬৭১ টাকা
১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ২,২২,০২০ টাকা
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১,৬৪,৫২১ টাকা

এর আগে ১৫ এপ্রিল বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে এবার সেই দাম আবার কমানো হলো।

রুপার দামও কমেছে

শুধু স্বর্ণ নয়, একই সঙ্গে রুপার দামেও সমন্বয় এনেছে বাজুস।
২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা।

এ ছাড়া অন্যান্য মানের রুপার দামও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববাজারের প্রভাবেই দরপতন

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে স্বর্ণ ও রুপার দামে টানা সংশোধন চলছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। ফলে স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন হিসেবে বাজুস নতুন দর নির্ধারণে বাধ্য হয়েছে।

ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি, তবু থাকছে অতিরিক্ত খরচ

দাম কমায় বিয়ের মৌসুমের ক্রেতা ও স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অলংকার কিনতে গেলে নির্ধারিত দামের সঙ্গে এখনো ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

অনলাইন গোল্ড ক্রেতাদের বিভিন্ন কমিউনিটিতেও এখন একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে—শুধু স্বর্ণের লাইভ রেট দেখলেই হবে না, এর সঙ্গে মেকিং চার্জ, ভ্যাট এবং বিশুদ্ধতার হিসাব মিলিয়ে চূড়ান্ত দাম বুঝে কিনতে হবে।

চলতি বছরে বহুবার সমন্বয়

বাজুস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম অর্ধশতাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের ওপর নির্ভর করেই এই পরিবর্তন আসছে।

স্বর্ণ কিনতে যা মাথায় রাখবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

  • বাজুস নির্ধারিত দিনের রেট মিলিয়ে নিন
  • হলমার্ক ছাড়া স্বর্ণ কিনবেন না
  • ভরি নয়, গ্রাম অনুযায়ী ওজন বুঝে নিন
  • মেকিং চার্জ ও ভ্যাট আগে জেনে নিন
  • বিল ছাড়া কেনাকাটা না করাই নিরাপদ

কারণ অনেক ক্রেতাই পরবর্তীতে এক্সচেঞ্জ বা বিক্রির সময় প্রকৃত মূল্য নিয়ে সমস্যায় পড়েন—এ অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক গোল্ড ক্রেতাদের ফোরামেও নিয়মিত উঠে আসে।

টানা মূল্যবৃদ্ধির পর ২৬ এপ্রিল দেশের স্বর্ণবাজারে এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। বিশেষ করে বিয়ে, গহনা কেনা বা বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ওঠানামা দেখা দিলে যেকোনো সময় নতুন দর ঘোষণা হতে পারে।

করপোরেট নিউজ ২৪/ এইচএইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.