EMail: corporatenews100@gmail.com
পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো ঈদের নামাজ। ইসলামী শরিয়তে এটি ওয়াজিব এবং নির্দিষ্ট নিয়মে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নিয়ত, তাকবির, কেরাত ও অন্যান্য বিধান জানা জরুরি।
নিচে সহজভাবে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হলো—
নিয়ত করার নিয়ম
নিয়ত মূলত মনের ইচ্ছা। আপনি যখন নামাজে দাঁড়িয়ে মনে করবেন—“আমি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি”—এটাই যথেষ্ট।
তবে মুখে বলতে চাইলে এভাবে বলতে পারেন:
বাংলায় নিয়ত:
আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে আদায় করছি।
আরবিতে (ঐচ্ছিক):
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ عِيدِ الْفِطْرِ…
মনে রাখবেন: নিয়ত মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়, অন্তরের ইচ্ছাই আসল।
ঈদের নামাজের নিয়ম (ধাপে ধাপে)
ঈদের নামাজ ২ রাকাত এবং এতে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির রয়েছে।
প্রথম রাকাত:
- তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে নামাজ শুরু
- সানা পড়া
- এরপর ৩টি অতিরিক্ত তাকবির
- ১ম ও ২য় তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- ৩য় তাকবিরে হাত বেঁধে নিন
- সুরা ফাতিহা + অন্য একটি সুরা
- রুকু ও সিজদা
দ্বিতীয় রাকাত:
- দাঁড়িয়ে সুরা ফাতিহা + অন্য সুরা
- রুকুতে যাওয়ার আগে ৩টি তাকবির
- প্রতিবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিন
- ৪র্থ তাকবির বলে রুকুতে যান
- এরপর স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করুন
কেরাত (কোন সুরা পড়া উত্তম)
হাদিস অনুযায়ী নিচের সুরাগুলো পড়া সুন্নত—
- প্রথম রাকাত: সুরা আল-আ’লা
- দ্বিতীয় রাকাত: সুরা আল-গাশিয়াহ
বিকল্পভাবে পড়া যায়—
- সুরা ক্বাফ
- সুরা আল-কামার
তবে অন্য যেকোনো সুরা পড়লেও নামাজ সহীহ হবে।
নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন?
যদি কোনো কারণে ঈদের নামাজ মিস হয়ে যায়—
- এর কাজা নেই
- কাছাকাছি অন্য জামাতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন
- তা সম্ভব না হলে তওবা ও ইস্তেগফার করুন
ঈদের নামাজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। সঠিক নিয়মে এই নামাজ আদায় করলে ইবাদতের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়।
তাই আগে থেকেই নিয়মগুলো জেনে নিন এবং ঈদের দিনটি করুন আরও পরিপূর্ণ ও বরকতময়।