EMail: corporatenews100@gmail.com
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-এর ভোক্তাদের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সংকেত দিচ্ছে।
বর্তমানে দেশটিতে জ্বালানির দাম সরকার মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখনো সরাসরি পাম্পে অনুভূত হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খুব শিগগিরই উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে প্রতিফলিত হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের প্রধান ব্যয় আসবে সরাসরি সামরিক খরচ, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধার মাধ্যমে। তবে এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়বে।
জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ে না, বরং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। ফলে খাদ্যপণ্য, কৃষি, নির্মাণ এবং পরিবহননির্ভর খাতগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে ওঠে। যেহেতু অধিকাংশ পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, তাই এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়ে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যেই উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ। এই অবস্থায় নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও চাপে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বেতন একই থাকলেও পণ্যের দাম বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভোগ করতে হবে ইসরায়েলের সাধারণ জনগণকে। Source : Times of Israel