EMail: corporatenews100@gmail.com
দেশে বিয়ের খরচ দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যয় সামাল দিতে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন ‘বিবাহ ঋণ’ বা ম্যারেজ লোনের দিকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণের আওতায় এই সুবিধা দিলেও এখনো সব ব্যাংক পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিবাহ ঋণ কী?
‘বিবাহ ঋণ’ আসলে আলাদা কোনো ঋণ নয়—এটি ব্যক্তিগত (পার্সোনাল) বা ভোক্তা ঋণের একটি অংশ। কিছু ব্যাংক এটি “Marriage Loan” নামে দিলেও অনেক ব্যাংক সাধারণ পার্সোনাল লোন হিসেবেই এই সুবিধা দেয়।
কোন ব্যাংকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়
🔹 NCC Bank
* ঋণের পরিমাণ: ১ লাখ – ২০ লাখ টাকা
* মেয়াদ: ১–৫ বছর
* যোগ্যতা: চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, জমির মালিক
* ন্যূনতম আয়:
* চাকরিজীবী: ৩০,০০০ টাকা
* অন্যরা: ৪০,০০০ টাকা
🔹 Uttara Bank
* ঋণের পরিমাণ: ২৫,০০০ – ৩ লাখ টাকা
* মেয়াদ: ১–৩ বছর
* ছোট বাজেটের বিয়ের জন্য উপযোগী
🔹 Mutual Trust Bank
ঋণের পরিমাণ: ২ লাখ – ২০ লাখ টাকা
বয়স: ২১–৬৫ বছর
যোগ্যতা: চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী
UCB Bank
ঋণের পরিমাণ: সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা
মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৫ বছর
কারা ‘বিবাহ ঋণ’ পাবেন?
২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক
চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী
নিজের, সন্তান বা ভাই-বোনের বিয়ের জন্য ঋণ নেওয়া যায়
বিশেষ ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা বয়সসীমা প্রযোজ্য।
কারা এই ঋণ পাবেন না?
নিয়মিত আয় নেই এমন ব্যক্তি
অস্থায়ী বা অনিশ্চিত পেশায় যুক্ত
ব্যাংকে দুর্বল লেনদেন ইতিহাস
ঋণ খেলাপি (ডিফল্টার)
আবেদন করতে যা লাগবে
জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট
সদ্য তোলা ছবি (২ কপি)
বেতন স্লিপ বা আয় সনদ
ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসায়ীদের জন্য)
গত ৬–১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
কিছু ক্ষেত্রে NOC (অনাপত্তি সনদ)
বিবাহ ঋণ নেওয়ার আগে যা ভাববেন
সুদের হার ও কিস্তি (EMI) হিসাব করুন
আপনার মাসিক আয়ের সাথে কিস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা দেখুন
অপ্রয়োজনীয় বেশি ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলুন
বিয়ের খরচ মেটাতে ‘বিবাহ ঋণ’ অনেকের জন্য সহজ সমাধান হতে পারে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই ঋণ আপনাকে আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।