USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

এখন ব্যাংকের মাধ্যমেই পাঠানো যাবে ভিসা বন্ডের টাকা

বিদেশগামীদের জন্য বড় স্বস্তি

বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভিসা আবেদন করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলোর একটি ছিল ‘ভিসা বন্ড’ বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানো। অনেক সময় আবেদনকারীদের বিকল্প বা অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এবার সেই জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনল Bangladesh Bank।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বিদেশি ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। ফলে বিদেশগামীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক?

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো দেশ যদি ভিসা প্রদানের শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছ থেকে আর্থিক গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি ডিপোজিট দাবি করে, তাহলে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো এখন সেই অর্থ বৈধভাবে বিদেশে পাঠাতে পারবে।

এতদিন এই প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে অনুমোদিত না থাকায় অনেক আবেদনকারী সমস্যায় পড়তেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মপ্রত্যাশী ও দীর্ঘমেয়াদি ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই জটিলতা বেশি দেখা যেত।

ভিসা বন্ড আসলে কী?

ভিসা বন্ড হলো এমন একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা কোনো দেশ বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ভিসা দেওয়ার আগে জামানত হিসেবে চেয়ে থাকে। মূল উদ্দেশ্য হলো—ভিসাধারী নির্ধারিত সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন, সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা।

সহজ ভাষায়, এটি এক ধরনের ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত। আবেদনকারী ভিসার শর্ত ভঙ্গ না করলে বা নির্ধারিত সময় শেষে দেশে ফিরে এলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

বিশ্বের কিছু উন্নত দেশ, বিশেষ করে অভিবাসন ঝুঁকি বেশি মনে করলে, এই ধরনের ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট চেয়ে থাকে।

নতুন সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালার ফলে এখন আবেদনকারীরা কয়েকটি উপায়ে এই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবেন।

১. ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানো

ব্যাংক এখন আবেদনকারীর হয়ে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবে। ফলে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করার প্রয়োজন কমবে।

২. আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার

ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। সেখানে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রিলোড করা থাকবে। এই কার্ড ব্যবহার করেই ভিসা বন্ডের টাকা জমা দেওয়া যাবে।

৩. পুরোনো আন্তর্জাতিক কার্ডেও সুবিধা

যাদের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা ভ্রমণ কোটার আওতায় পুনরায় অর্থ লোড করে একই কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

৪. বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকেও অর্থ ব্যবহার

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, Bangladesh Bank অনুমোদিত এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব কিংবা রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব থেকেও এই সুবিধা নেওয়া যাবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদেশগামী নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

কারণ এতদিন ভিসা বন্ড পাঠানোর বৈধ ও সহজ কোনো কাঠামো না থাকায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়তেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা—

  • দালাল বা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিতেন
  • অতিরিক্ত খরচ বহন করতেন
  • প্রতারণার শিকার হতেন
  • সময়মতো ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারতেন না

নতুন নীতির ফলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

কোন দেশগুলোর ক্ষেত্রে বেশি উপকার হবে?

বিশেষ করে যেসব দেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের প্রয়োজন হয়, সেসব দেশের আবেদনকারীরা বেশি উপকৃত হবেন।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • United States
  • Canada
  • Australia
  • United Kingdom এর কিছু বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসা
  • বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের নির্দিষ্ট ভিসা প্রোগ্রাম

বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য এই সুবিধা বড় স্বস্তি হয়ে আসতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুবিধা হবে?

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের অনেক সময় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ডিপোজিটও জমা দিতে হয়।

এখন ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধভাবে অর্থ পাঠানো গেলে—

  • আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হবে
  • অর্থ পাঠানোর প্রমাণ সহজে দেখানো যাবে
  • ভিসা সাক্ষাৎকারে স্বচ্ছতা বাড়বে
  • প্রতারণার ঝুঁকি কমবে

এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক লেনদেনেও ইতিবাচক প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকেও আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করবে।

বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক লেনদেন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভিসা বন্ড পাঠানোর মতো সংবেদনশীল বিষয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

এতে হুন্ডি বা অননুমোদিত পদ্ধতির ব্যবহার কমতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোকে কী সতর্কতা মানতে হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসা বন্ড বা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি ডিপোজিটের কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

অর্থাৎ—

  • অর্থের উৎস যাচাই করতে হবে
  • ভিসা সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে
  • বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিশ্চিত করতে হবে
  • অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না

ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে যথাযথ কমপ্লায়েন্স ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বিদেশগামীদের জন্য নতুন বার্তা

বর্তমানে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি শিক্ষা, চাকরি ও ভ্রমণের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই ভিসা প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হন।

নতুন এই সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে যে, Bangladesh Bank এখন আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার দিকে এগোচ্ছে।

এতে বিদেশগামীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থাও বাড়বে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভিসা বন্ডের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ চালু হওয়া বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত মানুষের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

করপোরেট নিউজ ২৪/ এইচ এইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.