EMail: corporatenews100@gmail.com
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার প্রস্তুত করেছে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’এর খসড়া। নতুন এই নীতিতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পণ্যের এইচএস কোড ও বর্ণনার অসামঞ্জস্য নিয়ে আমদানিকারকদের যে হয়রানি ও বিলম্বের মুখে পড়তে হতো, তা নিরসনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
খসড়া নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো পণ্যের এইচএস কোড এবং পণ্যের প্রকৃত বর্ণনার মধ্যে অমিল দেখা দিলে ‘বর্ণনা’কেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ফলে কোডজনিত জটিলতা দেখিয়ে পণ্য আটকে রাখা, অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চাওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির সুযোগ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পরিবর্তন আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবমুখী করবে।
বর্তমান ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’-এর পরিবর্তে আসা নতুন খসড়ায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে আমদানি প্রক্রিয়া
নতুন নীতিতে আমদানি ম্যানিফেস্ট গ্রহণ, শুল্ক পরিশোধ, অনুমোদন ও পারমিট ইস্যুতে ইলেকট্রনিক এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে কাগজপত্র নির্ভরতা কমবে এবং সময় সাশ্রয় হবে।
এছাড়া ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর’ সুবিধা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্বীকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা পাবে, যা বন্দরজট কমাতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমদানির সংজ্ঞায় যুক্ত হচ্ছে ‘সেবা’
খসড়া নীতিতে ‘আমদানি’র সংজ্ঞাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগে মূলত পণ্য আমদানিকে কেন্দ্র করে সংজ্ঞা নির্ধারণ থাকলেও এবার সেবা আমদানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উপস্থিতি বা বিদেশি ব্যক্তির মাধ্যমে সেবা গ্রহণের বিষয়ও আমদানির আওতায় আসবে।
একইসঙ্গে আমদানিকারকের সংজ্ঞায় ‘আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ইনডেন্টর (নিবন্ধন) আদেশ, ২০২৩’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে বড় ছাড়
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সাধারণ গাড়ি বা ট্রাক ৫ বছরের বেশি পুরনো হলে আমদানি করা না গেলেও, বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত পুরনো যান আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা
খসড়া নীতিতে ‘ওপেন অ্যাকাউন্ট’ পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরাসরি অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ওষুধ শিল্পের জন্য নমুনা ও বিজ্ঞাপন সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রেও শিথিলতা আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নমুনা পণ্য বিনা অনুমতিতে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিতে গুরুত্ব
ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট, কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট এবং ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট এর আওতায় আমদানি নিয়ন্ত্রণ শর্ত শিথিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক নীতি
‘ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে প্রণীত নতুন এই খসড়া নীতিকে ব্যবসাবান্ধব ও সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি চূড়ান্ত হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে, বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে।
করপোরেট নিউজ২৪/ এইচএইচ