EMail: corporatenews100@gmail.com
ইতিহাসের অন্যতম বড় আইপিও আনছে স্পেসএক্স
ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারেন ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক পরিচালিত মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX) শেয়ার বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ Initial Public Offering (IPO) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, গত বছরস্পেসএক্স-এর রাজস্ব ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার। তবে বিপুল আয়ের পরও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালন খাতে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। চলতি বছরের শুরুতেও ক্ষতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তবুও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, Sস্পেসএক্স-এর আইপিও বিশ্বের বৃহত্তম আইপিওগুলোর একটি হতে পারে। এমনকি এটি সৌদি আরবের তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো-এর রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সৌদি আরামকো সাত বছর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্পন্ন করেছিল।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারে। যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানানো হয়নি।
SpaceX জানিয়েছে, এই অর্থ মূলত চাঁদ ও ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই মানবজাতিকে “মাল্টি-প্ল্যানেটারি” বা বহু গ্রহে বসবাসকারী প্রজাতিতে পরিণত করার স্বপ্নের কথা বলে আসছেন।
কোম্পানির দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, “আমরা চাই না মানবজাতির পরিণতি ডাইনোসরদের মতো হোক।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আইপিও সফল হলে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হতে পারেন। বর্তমানে তিনি স্পেসএক্স-এর বড় অংশের শেয়ারের মালিক।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছে কোম্পানিটি। নথি অনুযায়ী, মাস্ক এবং কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারহোল্ডার বিশেষ ধরনের শেয়ার পাবেন, যেখানে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০টি ভোটাধিকার থাকবে। এর ফলে তারা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য নির্বাচন করতে পারবেন।
SpaceX বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলেছে, এই কাঠামোর কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কর্পোরেট সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী মহাকাশ প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা যখন তীব্র হচ্ছে, তখন SpaceX-এর এই সম্ভাব্য আইপিও প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক ঘটনা নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।