USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে ) ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে, যা চলতি সপ্তাহে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনাই বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কতটা কমেছে তেলের দাম?

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী—

  • ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৪ ডলার বা ১.১% কমে ৯২.৬৭ ডলারে নেমেছে।
  • মার্কিন WTI ক্রুডের দাম ১.২৬ ডলার বা ১.৪% কমে ৮৭.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শুধু একদিন নয়, পুরো সপ্তাহজুড়েই তেলের বাজার ছিল চাপে।

  • ব্রেন্ট ক্রুড সপ্তাহজুড়ে ১০.৫% কমেছে।
  • WTI ক্রুড কমেছে ৯.২%।

এটি এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কী ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে?

রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতাও শিথিল করার আলোচনা হয়েছে।

তবে এখনও চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, আলোচনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও বাকি রয়েছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই রুটে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

তিন মাসের সংঘাতের কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়।

এখন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।

আরও কমতে পারে তেলের দাম?

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন একটি ধারণা শক্তিশালী হচ্ছে যে সংঘাত কার্যত শেষের পথে এবং একটি সমঝোতা চুক্তি আসতে পারে।

তার মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমে ৮০ ডলারের ঘরে চলে যেতে পারে।

তবে ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি শেষ নয়

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।

ING-এর বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের সময় অনেক তেলক্ষেত্র উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা বন্ধ রাখে। ফলে উৎপাদন পুনরায় বাড়াতে সময় লাগবে।

এছাড়া যুদ্ধের সময় কিছু পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো পুরো সক্ষমতায় ফিরতেও সময় লাগবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বিশেষ করে—

  • ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত
  • পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ

এই দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভ্যান্স বলেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে আমি আশাবাদী।”

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা ইতিবাচক খবর।

কারণ—

  • জ্বালানি আমদানির খরচ কমতে পারে
  • বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমতে পারে
  • পরিবহন ব্যয় হ্রাস পেতে পারে
  • মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে

তবে এসব সুবিধা পেতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আবারও প্রমাণ করল, একটি কূটনৈতিক সমঝোতার খবর কীভাবে মুহূর্তেই বৈশ্বিক তেলের বাজারকে নাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করলেও চূড়ান্ত সমাধান এখনও বাকি। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

তেলের দাম, ডলারের রেট, স্বর্ণের বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন: করপোরেটনিউজ২৪ ডটকম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.