EMail: corporatenews100@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের খবরে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।
শুক্রবার (৩০ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৪,৪৯৬ ডলারের আশেপাশে লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দামে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আশাবাদ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই চুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হতে পারে।
এই খবরে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের সম্ভাবনাও কমবে।
কেন যুদ্ধবিরতির খবর সোনার দামে প্রভাব ফেলছে?
সাধারণত আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে সোনার দাম বেড়ে যায়।
অন্যদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা কিছুটা কমে যায়। ফলে সোনার দাম স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও ঠিক সেটিই ঘটছে।
হরমুজ প্রণালী ও মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধের কারণে এই রুটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। আর তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পায়।
এখন যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু থাকে, তাহলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও কমতে পারে।
সুদের হার ও সোনার সম্পর্ক
সোনা কোনো সুদ দেয় না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন উচ্চ সুদের হার বজায় রাখে, তখন অনেক বিনিয়োগকারী সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা ছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু রাখতে বাধ্য করতে পারত।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা সেই উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির পর থেকে ১৫% কমেছে সোনা
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।
যুদ্ধ, কূটনৈতিক আলোচনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে দোলাচলের কারণে গত কয়েক মাস ধরে সোনার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে।
তবে বর্তমানে বাজার অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অবস্থা
শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
- রূপার দাম সামান্য বেড়েছে।
- প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
- মার্কিন ডলারের সূচকও প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে দেশীয় বাজারে সোনার দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মূল্য ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, কর এবং স্থানীয় চাহিদার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাজারে একই হারে দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত আন্তর্জাতিক রাজনীতি, তেলের বাজার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখা।
কারণ এসব বিষয়ই আগামী দিনে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বিশ্ববাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তেলের বাজারের পাশাপাশি স্বর্ণবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও চুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়, তবুও বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যে উত্তেজনা কমার পথে। ফলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদাও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
সোনার দাম, ডলারের রেট, তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং করপোরেট বিশ্বের সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন: করপোরেটনিউজ২৪ ডটকম।