Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

কর্মীদের AI ব্যবহারে উৎসাহ, আবার নিয়ন্ত্রণও: দ্বিধায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারে কর্মীদের উৎসাহিত করছে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান। তবে একই সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। AI-তে বিপুল বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান কম্পিউটিং খরচ সামাল দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে গিয়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

AI ব্যবহারে সীমা টানছে প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট তাদের অভ্যন্তরীণ AI সহকারী ব্যবহারে কর্মীদের জন্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বলে জানা গেছে। একইভাবে রাইড-শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার নির্দিষ্ট AI কোডিং টুল ব্যবহারে কর্মীদের মাসিক ব্যয় সর্বোচ্চ ১,৫০০ ডলারে সীমাবদ্ধ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বাজেট জনপ্রিয় AI কোডিং টুল ‘ক্লড কোড’-এর জন্য নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

AI ব্যবহারে চাপও দিচ্ছে কিছু কোম্পানি

অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের AI ব্যবহারে আরও সক্রিয় হতে চাপ দিচ্ছে। অ্যাকসেঞ্চার ও কয়েনবেস কর্মীদের জানিয়েছে, AI প্রযুক্তি গ্রহণে অনীহা ভবিষ্যতে তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন কিংবা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

স্টারবাকসের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মীদের বোনাসের একটি অংশ AI গ্রহণ ও ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

টোকেন খরচ বাড়ছে দ্রুত

AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে “টোকেন” হলো কম্পিউটিং ব্যবহারের একটি মৌলিক পরিমাপ। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই সম্প্রতি জানিয়েছেন, গত এক বছরে কোম্পানির AI সেবাগুলোর মাসিক ব্যবহার সাত গুণ বেড়ে ৩.২ কোয়াড্রিলিয়ন টোকেনে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান বছরের শুরুতে নির্ধারিত AI বাজেট কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলছে। ফলে AI ব্যবহারের ওপর নতুন করে নজরদারি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

‘শুধু ব্যবহারের জন্য AI ব্যবহার নয়’

অ্যামাজন কর্মীদের মধ্যে AI ব্যবহারের প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করার জন্য চালু করা একটি র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ কিছু কর্মী বাস্তব সমস্যার সমাধানের চেয়ে বেশি টোকেন ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু AI ব্যবহার করার জন্য AI ব্যবহার করবেন না।”

এদিকে সেলসফোর্সও AI ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়িক মূল্য কতটা তৈরি হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে।

বিনিয়োগ বাড়ছে, লাভের হিসাব এখনো অস্পষ্ট

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা গেছে, AI ব্যক্তিগত ও ছোট দলভিত্তিক কাজের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম। উদাহরণ হিসেবে, ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসির কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ সময় সাশ্রয় করছেন।

তবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যয় সাশ্রয় বা দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে AI-এর প্রকৃত প্রভাব এখনো অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট নয়। ফলে বিপুল বিনিয়োগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।

AI ব্যবহারে ‘গোল্ডিলকস’ নীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠান AI ব্যবহারে ‘অতিরিক্ত নয়, আবার খুব কমও নয়’—এমন একটি মধ্যপন্থা অনুসরণ করতে পারে।

তবে কর্মীরা যখন ধীরে ধীরে AI ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠছেন, ঠিক সেই সময়ে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা বিপরীত ফলও দিতে পারে। এতে AI থেকে প্রত্যাশিত দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা অর্জন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চাকরি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

AI প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, AI দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, AI এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি করপোরেট কৌশল, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

করপোরেট নিউজ২৪/এইচএইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.