Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

চাকরিজীবী পুরুষদের চেয়ে নারীরা যেখানে পিছিয়ে: গবেষণা

নতুন চাকরির প্রস্তাবকে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বেতন বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে পুরুষরা নারীদের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহার করেন, আর এই প্রবণতাই নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।

জার্মানিভিত্তিক Rockwool Foundation Berlin-এর গবেষণাটি শুক্রবার ২৪ জুলাই  প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেতন বৈষম্যের বড় কারণ বেতন পুনঃআলোচনা

গবেষণায় বলা হয়েছে, নারী-পুরুষের বেতনের ব্যবধানের প্রায় অর্ধেকই তৈরি হয় বেতন পুনঃআলোচনা (Salary Renegotiation) থেকে।

অর্থাৎ, একই ধরনের কাজ করলেও অনেক পুরুষ কর্মী বাইরের প্রতিষ্ঠানের চাকরির অফার দেখিয়ে বর্তমান কর্মস্থলে বেতন বৃদ্ধি আদায় করতে সক্ষম হন। কিন্তু একই সুযোগ পেলেও নারীরা তুলনামূলকভাবে সেই সুবিধা পান না।

একই কর্মস্থলেও পুরুষদের বেতন বেশি

গবেষণায় দেখা গেছে, একই কর্মস্থল ও একই পেশায় কর্মরত পুরুষরা গড়ে নারীদের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি বেতন পান।

গবেষকদের মতে, এই ব্যবধান শুধু নিয়োগের সময় নয়, চাকরির সময় বেতন নিয়ে দরকষাকষির ক্ষেত্রেও তৈরি হয়।

নারীরা চাকরি বদলান, পুরুষরা বেতন বাড়ান

গবেষণায় আরও দেখা গেছে—

  • পুরুষরা নতুন চাকরির প্রস্তাবকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বেতন বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
  • নারীরা একই ধরনের চাকরির সুযোগ পেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
  • ফলে পুরুষরা চাকরি না বদলিয়েই বেশি বেতন আদায় করতে সক্ষম হন, আর নারীরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেও একই ধরনের আর্থিক সুবিধা সব সময় পান না।

ইইউর নতুন বেতন স্বচ্ছতা আইন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের Pay Transparency Directive চলতি বছরের জুন মাস থেকে কার্যকর হয়েছে।

এই আইনের লক্ষ্য হলো—

  • একই প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের বেতনের পার্থক্য আরও স্বচ্ছ করা।
  • কর্মীদের বেতনসংক্রান্ত তথ্য জানার সুযোগ বাড়ানো।
  • বৈষম্য কমাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনা।

তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু বেতন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলেই নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য পুরোপুরি দূর হবে না। কারণ দরকষাকষির আচরণ, আলোচনার কৌশল এবং কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে করা হয়েছে গবেষণা?

গবেষকরা এমন কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, যারা অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাবা-মা বা ভাই-বোনের মাধ্যমে নতুন চাকরির সুযোগের খবর পেয়েছিলেন।

এর মাধ্যমে তারা দেখেছেন, নতুন চাকরির সুযোগ পাওয়ার পর নারী ও পুরুষ কর্মীরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং সেটি তাদের বেতনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে যে, কর্মক্ষেত্রে বেতন বৈষম্য কমাতে শুধু আইনি সংস্কারই যথেষ্ট নয়। কর্মীদের বেতন নিয়ে আলোচনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিয়োগকর্তাদের ন্যায্য বেতননীতি অনুসরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে বেতন নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ ও আত্মবিশ্বাস পান।

সূত্র: Reuters

করপোরেটনিউজ২৪,এসটি

Leave A Reply

Your email address will not be published.