EMail: corporatenews100@gmail.com
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ঋণখেলাপির অভিযোগ সম্পর্কে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি ছিলেন না; বরং একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার ঘটনাকে ভুলভাবে ঋণখেলাপি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কী বললেন গভর্নর?
মোস্তাকুর রহমান জানান, তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেটি একটি সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি ছিল। প্রকল্পটির প্রথম ঋণ অনুমোদন হয়েছিল এফএসএসপি প্রকল্পের আওতায়, যেখানে সুদের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
তবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানায় যে তহবিল শেষ হয়ে গেছে এবং পরবর্তী সময়ে ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হবে। ফলে প্রকল্পের আর্থিক হিসাব ও পূর্ব পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং ঋণ পরিশোধে বিলম্ব সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জও যুক্ত ছিল।
‘ওভারডিউ’ আর ‘খেলাপি’ এক নয়
গভর্নর বলেন, ঋণ পরিশোধে বিলম্ব (ওভারডিউ) এবং প্রকৃত ঋণখেলাপি হওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়।
তার দাবি অনুযায়ী—
- সংশ্লিষ্ট কারখানা কখনও বন্ধ হয়নি।
- রপ্তানি কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি।
- কর্মীদের বেতন দিতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়নি।
- ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ মওকুফ চাওয়া হয়নি।
- বরং প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটিরও বেশি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।
তিনি বলেন, “একটি মিথ্যা বারবার বলা হলে অনেক সময় তা সত্য বলে মনে হতে পারে।”
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন
একই অনুষ্ঠানে অর্থপাচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সাফল্যের হার খুবই কম, গড়ে প্রায় ২ শতাংশ।
তার মতে, এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। তবে বাংলাদেশও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।