Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক ইউরোপ

রাশিয়ার গ্যাস আমদানি ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেও ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে চায় না। ফলে মার্কিন এলএনজি রপ্তানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির প্রস্তাবে এখনো খুব বেশি সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের ক্রেতারা।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে অনীহা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এলএনজি রপ্তানি প্রকল্পগুলোর উদ্যোক্তারা ইউরোপীয় আমদানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর থেকে বিরত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের প্রধান উদ্বেগ হলো—দশকের পর দশক রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল থাকার পর এখন যেন একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।

২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ান গ্যাস বন্ধের পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • ২৫ এপ্রিল থেকে স্পট চুক্তির আওতায় রাশিয়ান এলএনজি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • ২০২৭ সালের শুরু থেকে রাশিয়ান এলএনজি আমদানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
  • ২০২৭ সালের শেষার্ধে পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ান গ্যাস আমদানিও বন্ধ করা হবে।

এর ফলে ইউরোপকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইইএফএ (IEEFA)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসতে পারে।

তবে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় রাখতে আগ্রহী। এজন্য তারা কানাডা, কাতার এবং অন্যান্য উৎপাদক দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

কানাডার দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় জ্বালানি কোম্পানি কানাডার প্রস্তাবিত এলএনজি রপ্তানি প্রকল্প Ksi Lisims LNG-এর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রকল্পটির বার্ষিক উৎপাদনের ৫০ লাখ টনের জন্য ইতোমধ্যে সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন উৎপাদনের জন্য নতুন ক্রেতা খুঁজছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ যদি কানাডা, কাতার ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি বাড়ায়, তাহলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও কমবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপ এখন জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তাই রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং একাধিক উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের কৌশল গ্রহণ করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এতে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট এবং মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.