EMail: corporatenews100@gmail.com
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এসেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, এটি দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন এই দর ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত স্বর্ণমূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
সেই ঘোষণায় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ভরিতে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা।
সব মিলিয়ে, চলতি বছরের প্রথম ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বাজারে সপ্তমবারের মতো স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে পাঁচবার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং দুইবার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সারা বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বেড়েছিল ৬৪ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।