EMail: corporatenews100@gmail.com
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে অবশেষে কারাগারে যেতে হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে। আপন চাচাকে বাবা এবং চাচিকে মা হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রবেশের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জামিনের শর্ত ভঙ্গেই কারাগারে
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, কামাল হোসেন একাধিকবার জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করায় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পেলেও পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের সময় তদন্তে সহযোগিতা ও ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শর্তে জামিন মঞ্জুর হয়েছিল।
কিন্তু দুই দফায় এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
যেভাবে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির তথ্য
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম এবং মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের আপন চাচা—বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে দেখান।
এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান।
শিক্ষাজীবনের নথিতেই ধরা পড়ে প্রতারণা
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সময় প্রকৃত বাবার নামই ব্যবহার করেছিলেন।
কিন্তু নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় কৌশলে স্কুলের কাগজপত্রে চাচা-চাচিকে বাবা-মা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিচয় জালিয়াতির ধারাবাহিকতা।
গুরুতর অভিযোগে মামলা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু মামলাটি করেন।
মুক্তিযোদ্ধা কোটার মতো সংবেদনশীল ও সম্মানজনক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি জাতির ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গেও প্রতারণা। দীর্ঘদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত আইনের হাত এড়ানো সম্ভব হলো না।
তরপোরেট নিউজ/ এসি