EMail: corporatenews100@gmail.com
এবার যে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে
শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না পরে সিদ্ধান্ত
দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক খাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের পথে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়ে আপাতত অবসায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেসব ৬ প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব এনবিএফআই বন্ধ বা অবসায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেগুলো হলো—
-
ফাস ফাইন্যান্স
-
প্রিমিয়ার লিজিং
-
ফারইস্ট ফাইন্যান্স
-
অ্যাভিভা ফাইন্যান্স
-
পিপলস লিজিং
-
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার দীর্ঘদিন ধরেই ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে।
তিন প্রতিষ্ঠান পেল সময়
তবে আপাতত অবসায়ন থেকে রেহাই পেয়েছে তিনটি এনবিএফআই। আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে—
-
জিএসপি ফাইন্যান্স
-
প্রাইম ফাইন্যান্স
-
বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
এই সময়ের মধ্যে আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি দেখাতে না পারলে পরবর্তীতে তাদের ক্ষেত্রেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের কারণে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যালোচনায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে এসব প্রতিষ্ঠানের শুনানি নেওয়া হয়, যা রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করেই তিন প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা বোর্ড সভায় অনুমোদন পায়।
পিকে হালদার কেলেঙ্কারির প্রভাব
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব এনবিএফআই কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়ে। বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে—
-
পিপলস লিজিং
-
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
-
ফাস ফাইন্যান্স
-
বিআইএফসি
এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
আমানতকারীরা টাকা পাবেন কবে?
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়ন শুরু হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমানত ফেরতের জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল মূল টাকা পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।
শেষ কথা
নন-ব্যাংক আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এবার অবসায়ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর পাশাপাশি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
করপোরেট নিউজ/ এসি