EMail: corporatenews100@gmail.com
বাবা দিবস হলো বাবাদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। পরিবারের নীরব শক্তি হিসেবে বাবারা সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের ত্যাগ, পরিশ্রম, দিকনির্দেশনা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফাদার্স ডে উদযাপিত হয়।
বাংলাদেশে বাবা দিবস (ফাদার্স ডে) ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে ফাদার্স ডে পালিত হবে রবিবার, ২১ জুন। বাংলাদেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালে ২১ জুন বাবা দিবস পালিত হবে।
ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের অনেক দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ফাদার্স ডে হিসেবে পালনের ঐতিহ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন :
বাবা দিবসে ২০২৬ কী উপহার দেবেন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস ভিন্ন দিনে কেন পালিত হয়?
মাদার্স ডের মতো নয়, ফাদার্স ডের কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক তারিখ নেই। অনেক দেশ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার দিনটি পালন করলেও কিছু দেশ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী ভিন্ন দিনে দিবসটি উদযাপন করে।
বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস এর তারিখ
- ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা: জুন মাসের তৃতীয় রবিবার
- সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন: প্রতি বছর ২১ জুন
- স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালি: ১৯ মার্চ
- অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড: সেপ্টেম্বর মাসে
এ কারণে প্রতি বছর ফাদার্স ডের তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
বাবা দিবস’র ইতিহাস
ফাদার্স ডের ধারণার সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রে। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী।
তিনি তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্টের সম্মানে একটি বিশেষ দিবস চালুর উদ্যোগ নেন। মার্কিন গৃহযুদ্ধের এই প্রবীণ সৈনিক স্ত্রী মৃত্যুর পর একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন।
সোনোরা মনে করেছিলেন, মায়েদের সম্মানে যখন মাদার্স ডে পালিত হয়, তখন বাবাদের অবদানকেও সমানভাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
প্রথম বাবা দিবস উদযাপন
১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরের একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তখনও এটি জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।
জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়ার দীর্ঘ পথ
বাবা দিবস ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- ১৯২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের পক্ষে সমর্থন দেন।
- ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময় এটি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় ছুটির মর্যাদা লাভ করে।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে উদযাপনের রীতি গড়ে ওঠে।
কেন বাবা দিবস উদযাপন করা হয়?
বাবা দিবস শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাবাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর একটি উপলক্ষ।
এই দিনে মানুষ বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের—
- ভালোবাসা ও স্নেহ
- ত্যাগ ও পরিশ্রম
- দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা
- মানসিক ও আর্থিক সহায়তা
- পরিবারের জন্য নিরলস সংগ্রাম
এসবের স্বীকৃতি দেয়।
অনেকের কাছে বাবা একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, অভিভাবক ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। জীবনের কঠিন সময়ে সাহস জোগানো এবং সাফল্যের মুহূর্তে পাশে থাকার জন্য বাবাদের ধন্যবাদ জানানোর একটি বিশেষ দিন হলো বাবা দিবস ।
বাবা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পরিবারের ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাবাদের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই দিনটি বাবার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি চমৎকার সুযোগ। একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা, একটি ফোনকল কিংবা পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো—এসবই বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
সব বাবাদের প্রতি রইল ফাদার্স ডে ২০২৬-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
Corporatenews24,ST