Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ, আদালতে আপিল খারিজ

পরীক্ষা জালিয়াতি ঠেকাতে

নয়াদিল্লি, ১৯ জুন ২০২৬: ভারতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে সরকারের আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার আদালত টেলিগ্রামের আপিল খারিজ করে দেয়, যা কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকার আগামী ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের দাবি, অ্যাপটির বিভিন্ন চ্যানেলে জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET-UG) প্রশ্নপত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন ও দাবি ছড়িয়ে পড়ছিল, যা পরীক্ষার্থীদের প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলছিল।

কেন টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করা হলো?

ভারতের জাতীয় স্নাতক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের কারণে একই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করা হয়েছিল। নতুন করে পরীক্ষার আগে টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেলে প্রশ্নপত্র বিক্রির দাবি উঠলে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, প্রশ্নগুলো সত্যি হোক বা মিথ্যা, এ ধরনের কার্যক্রম পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই জনস্বার্থে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

দ্রুত বাস্তবায়ন

সরকারি নির্দেশনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের টেলিকম অপারেটররা টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি গুগল ও অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোর থেকেও টেলিগ্রাম সরিয়ে ফেলে।

এ ঘটনাকে চলতি বছরে ভারত সরকার ও একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আইনি সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি তেজাস কারিয়া রায়ে বলেন, সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞার আদেশ যথাযথ কারণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালত সরকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।

টেলিগ্রামের অবস্থান

ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী সংখ্যা ১৫ কোটিরও বেশি, যা কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় বাজার। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ প্রকাশ্যে এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন।

তার মতে, কয়েকটি অসাধু চ্যানেলের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো প্ল্যাটফর্ম ও কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে অন্য প্ল্যাটফর্মে সরে গেছে।

সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

নিষেধাজ্ঞার আগে কয়েক দিন ধরে ভারত সরকার ও টেলিগ্রামের মধ্যে আলোচনা চলছিল। সরকার অভিযোগ করে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অ্যাকাউন্টগুলো অপসারণে টেলিগ্রাম যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনি।

অন্যদিকে টেলিগ্রাম আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সরকারের অভিযোগকে “একপেশে ও ভুল তথ্যভিত্তিক” বলে উল্লেখ করেছে। কোম্পানির দাবি, তারা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অবৈধ কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত ৯০০টিরও বেশি লিংক ও চ্যানেল অপসারণ করেছে।

ভারতে পরীক্ষা জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পিছপা হচ্ছে না। তবে ডিজিটাল স্বাধীনতা, ব্যবহারকারীর অধিকার এবং প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র : ডেইলি স্টার মালয়েশিয়া

Leave A Reply

Your email address will not be published.