USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

এবার কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উধাও পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক

অপর্যাপ্ত জামানতে শত কোটি টাকার ঋণ

চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এম এন নিটওয়্যার–কে দেয়া প্রায় ২৪৩ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে ৩টি বেসরকারি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন আহমেদ ঋণ খেলাপি হওয়ার পর সপরিবারে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের গ্রাহক হওয়ায় ব্যবসার প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও হালনাগাদ পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই না করেই শাখা পর্যায় থেকে একাধিক ব্যাংক বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেয়।

ইসলামী ব্যাংকের ঋণ ১১০ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখা থেকে এম এন নিটওয়্যার নেয় প্রায় ১১০ কোটি টাকা ঋণ। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকা ইতোমধ্যে খেলাপি (শ্রেণিকৃত) হয়েছে। অথচ এই ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের বাজারমূল্য আনুমানিক ১৭ কোটি টাকার বেশি নয়।

ইউসিবি ও ওয়ান ব্যাংকের অবস্থাও একই

একইভাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আগ্রাবাদ শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানটি নেয় ২৭ কোটি টাকা ঋণ। পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করেছে।

অন্যদিকে, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখা–এর কাছে এম এন নিটওয়্যারের মোট দেনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা হয় মাত্র ১১ শতক জমি, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকার কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ওয়ান ব্যাংক অর্থঋণ মামলা ও পাঁচটি এনআই অ্যাক্ট মামলা দায়ের করেছে।

কারখানা ও বাসভবনে তালা

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার একটি প্রতিনিধি দল নগরের ঈদগাঁও এলাকায় অবস্থিত এম এন নিটওয়্যারের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখে। একইভাবে কারখানা মালিক মো. মঈন উদ্দিন আহমেদের বাসভবনও তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

বিদেশে অবস্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে মো. মঈন উদ্দিন আহমেদ সপরিবারে কানাডায় চলে যান। তবে তিনি বিদেশ থেকে পাঠানো এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়েননি; ব্যবসায়িক কাজে সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি তিনি জানাননি।

তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনা শাখা পর্যায়ে ঋণ অনুমোদনে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জামানত যাচাইয়ের ঘাটতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের ফলেই এখন ব্যাংকগুলো বড় আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

করপোরেট নিউজ / এসি

Leave A Reply

Your email address will not be published.