EMail: corporatenews100@gmail.com
বিশ্ব ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। টানা দরপতনের ধারাবাহিকতায় এর মূল্য ৭১ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি একদিনেই বিটকয়েনের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে প্রতি বিটকয়েন লেনদেন হচ্ছিল প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ ডলারে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখনও থামেনি।
সাম্প্রতিক এই দরপতনের ফলে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের শেষের দিকের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর বাজার এখন বড় ধরনের সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো ১ লাখ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল বিটকয়েন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এমনকি অক্টোবরে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি দামে পৌঁছালেও এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দরপতন শুরু হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে পারে—এই প্রত্যাশায় বিটকয়েনসহ অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার দাম দ্রুত বেড়েছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এছাড়া নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাঁর ছেলেদের সঙ্গে মিলে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি কৌশলগত ক্রিপ্টো রিজার্ভ গঠনের ঘোষণাও দেন, যেখানে বিটকয়েনসহ আরও চারটি ডিজিটাল মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
তবে ট্রাম্প-সমর্থিত একটি ক্রিপ্টো লেনদেন নিয়ন্ত্রণ বিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আটকে থাকায় খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ও ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিলটি এখনো পাস হয়নি।
এরই মধ্যে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা রো খান্না ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবিভিত্তিক এক কর্মকর্তার প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছেন, যা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিটকয়েনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শেয়ার ও পণ্যবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একপর্যায়ে রুপার দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একই সঙ্গে হংকংয়ের প্রধান শেয়ার সূচক ১.৩ শতাংশ এবং জাপানের সূচক ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
করপোরেট নিউজ ২৪/ এসি