USA news 24/7
Stay Ahead with the Latest in Business

যুদ্ধ থামানো ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকানোর বিকল্প নেই

হরমুজ প্রণালী খোলা তবে শত্রুর জাহাজ চলাচলের জন্য না -ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাধারণত দৈনন্দিন আলোচনার বিষয় না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে তেলের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, যা বাজারে নতুন ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেড়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপর বিমান হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানদণ্ডগুলোর একটি হলো Brent crude। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কেনাবেচার অধিকাংশ চুক্তিতে এই মানদণ্ডকে রেফারেন্স হিসেবে ধরা হয়। ফলে এর দামের পরিবর্তন সরাসরি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে অধিকাংশ তেলই ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তির মাধ্যমে কেনাবেচা হয়। তাই সামনের মাসগুলোতে সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই বাজারে এখন দাম বাড়ছে।

এরই মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি তেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন দেশ। International Energy Agency (আইইএ) জানিয়েছে, কয়েক ডজন দেশ তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। ঘোষণার পরপরই তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বড় সংকটের সাময়িক সমাধান মাত্র। বাজারে ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসাব করা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে জাহাজে নতুন হামলার খবর আসায় আবার দাম বাড়তে শুরু করে।

অন্যদিকে বিশ্বে তেল পরিশোধন ক্ষমতার ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। ফলে কাঁচা তেল ছাড়লেও তা দ্রুত পেট্রোল বা জেট ফুয়েলে রূপান্তর করে বাজারে সরবরাহ করা সহজ নয়।

বর্তমান অস্থিরতার আরেকটি বড় কারণ হলো চলমান সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান এর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এখনো দুই সপ্তাহও পার হয়নি। যুদ্ধ কতদিন চলবে বা এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের মূল নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত তেলের দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান এই জ্বালানি পণ্যের বাণিজ্য যে কতটা একটি ছোট কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল—সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে আলজাজিরা শনিবার জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে।  কিন্তু ইরান শত্রুদের এবং তাদের মিত্রদের তেল ট্যাংকার ও জাহাজ পার হতে দেবে না। তিনি বলেন,

যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা করা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোম্পানির স্থাপনাগুলোতে আঘাত করবে তার দেশ।

আরাঘচি বলেন, যদি ইরানের স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্য করা হয়, আমাদের বাহিনী এ অঞ্চলের মার্কিন কোম্পানি বা যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার আছে- সেসব স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিকারমূলক হামলার সময় জনবহুল এলাকা লক্ষ্য করা না হয় সেদিকে আমরা সতর্ক থাকব।

 

করপোরেট নিউজ ২৪/জিএনএস

Leave A Reply

Your email address will not be published.