Corporate & Business News Bangladesh
Corporate Bangladesh Corporate Bangladesh Corporate News Bangladesh Company News CEO Interview Business Leadership

কীভাবে চলত প্রশ্নফাঁসের কারবার?

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: আবেদ আলীর নেতৃত্বে ছিল ৫৫ জন

তদন্তে উঠে এসেছে, পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহ করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হতো।

এই সুবিধা নেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগাম মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ঘিরে আলোচিত প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নেতৃত্বে অন্তত ৫৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় আর্থিক সংকটে থাকা আবেদ আলী প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় নির্মাণ করেন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও সম্পদের তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

আদালতে জমা চার্জশিটে যা আছে

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে ১৮ মে আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় রুজু হয়েছিল।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, চক্রটির সদস্যরা পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থী সংগ্রহকারী দালালদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।

গ্রেফতার ৩৬ জন, পলাতক ১৯

তদন্ত প্রতিবেদনে ৫৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসির সাবেক ও বর্তমান কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের সদস্যরা।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত ছিল নেটওয়ার্ক

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, প্রশ্নফাঁস চক্রটি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক ছিল না। দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক ছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তাদের যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তৃত ছিল।

অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের তদন্তের সুপারিশ

চার্জশিটে কয়েকজন অভিযুক্তের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তদন্ত শুরু হলে প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের আর্থিক পরিধি এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার ওপর আঘাত

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁস চক্রের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে গেলে প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নাম সামনে আসতে পারে।

করপোরেটনিউজ২৪/এইচএইচ

Leave A Reply

Your email address will not be published.