EMail: corporatenews100@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই চীনের বড় কয়েকটি প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে নজরদারির তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)।
সোমবার প্রকাশিত এক ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে পেন্টাগন জানিয়েছে, চীনের সামরিক আধুনিকায়নে সহায়তার অভিযোগে আলিবাবা, বাইডু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD)-কে তাদের বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কী এই 1260H তালিকা?
পেন্টাগনের “1260H List” হলো এমন একটি তালিকা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী চীনের সামরিক বাহিনী বা প্রতিরক্ষা শিল্পকে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়।
এই তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোকে চীনের “মিলিটারি-সিভিল ফিউশন” কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ বেসামরিক প্রযুক্তি ও শিল্পকে সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এবার যুক্ত হলো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- আলিবাবা (Alibaba)
- বাইডু (Baidu)
- বিওয়াইডি (BYD)
এর আগে ২০২৫ সালে টেনসেন্ট (Tencent)-কেও একই তালিকায় যুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কোম্পানিই মার্কিন নজরদারির আওতায় চলে এসেছে।
ইভি ও চিপ শিল্পেও নজর
চীনের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা BYD-কে তালিকাভুক্ত করায় বিষয়টি এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও অটোমোবাইল শিল্পেও মার্কিন নজরদারি আরও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া চীনের দুই বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা—
- ChangXin Memory Technologies
- Yangtze Memory Technologies
কেও পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই তালিকায় থাকলে কী প্রভাব পড়ে?
পেন্টাগনের এই তালিকায় নাম উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় না। তবে—
- মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি সীমিত হতে পারে
- গবেষণা তহবিল পাওয়া কঠিন হতে পারে
- বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়
- ভবিষ্যতে বাণিজ্য বা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়ে
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের আরও কঠোর মার্কিন পদক্ষেপের পূর্বাভাস হতে পারে।
বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি যুদ্ধ
২০২১ সালে প্রথম প্রকাশিত এই 1260H তালিকায় বর্তমানে ১০০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বিমান, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নির্মাণ ও জাহাজ শিল্পের বড় বড় কোম্পানিও রয়েছে।
বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে AI, চিপ প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে দুই দেশের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে।
কনি/ চীনা ব্যবসার খবর/