EMail: corporatenews100@gmail.com
জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম TikTok-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে ফ্রান্সে যৌথ মামলা করেছে ১৬টি পরিবার। অভিযোগে বলা হয়েছে, TikTok-এর অ্যালগরিদম কিশোর-কিশোরীদের মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আসক্তি তৈরি করছে, যা কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যা ও গুরুতর মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম Franceinfo।
TikTok ‘মানসিক কারাগার’ তৈরি করছে: আইনজীবী
পরিবারগুলোর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন আইনজীবী Laure Boutron-Marmion।
তিনি অভিযোগ করেন, TikTok এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা কিশোরদের মানসিক দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে কাজ করে।
তার ভাষায়—
“TikTok কিশোরদের জন্য মানসিক কারাগার তৈরি করছে। এটি এক ধরনের ডিজিটাল মাদক।”
তিনি আরও বলেন, প্ল্যাটফর্মটির ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্ট সাজেশন ও অবিরাম স্ক্রলিং ব্যবস্থা কিশোরদের মধ্যে তীব্র আসক্তি তৈরি করছে।
আত্মহত্যা, বিষণ্নতা ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা
মামলায় অংশ নেওয়া কয়েকটি পরিবার দাবি করেছে, তারা নিজেদের সন্তানকে আত্মহত্যার কারণে হারিয়েছে।
অন্য পরিবারগুলো জানিয়েছে, TikTok ব্যবহারের পর তাদের সন্তানদের মধ্যে দেখা দিয়েছে—
- বিষণ্নতা
- আত্মহত্যার চিন্তা
- অ্যানোরেক্সিয়া
- মানসিক অস্থিরতা
পরিবারগুলোর অভিযোগ, TikTok এসব ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
TikTok কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
এই মামলায় শুধু TikTok প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং ফ্রান্স ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের TikTok কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, কোম্পানিটি খুব ভালোভাবেই জানে তাদের সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে এবং তা কিশোরদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের আলোচনা
এই অভিযোগের পর ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে দেশটিতে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।
TikTok-এর প্রতিক্রিয়া
TikTok আগে জানিয়েছিল, তারা কিশোর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য ৫০টিরও বেশি নিরাপত্তা ফিচার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে।
কোম্পানিটি দাবি করে, বয়স উপযোগী ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানসিক স্বাস্থ্য বিতর্ক
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে TikTok, Instagram এবং অন্যান্য অ্যালগরিদম-নির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে গবেষণা ও আইনি পদক্ষেপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সূত্র : Anadolu Agency